রবিবার ● ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল দাবি করেছেন নারী নেত্রীরা
জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল দাবি করেছেন নারী নেত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন নারী নেত্রী ও নারী অধিকারকর্মীরা। তাঁর ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।
নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয়, বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক অবদানকে অস্বীকার করার শামিল।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মোশরেফা মিশু বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ওই ‘হ্যাকিং’ অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য এসেছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে তথাকথিত ‘হ্যাকিং’ দাবিটি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
নারী নেত্রীরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও তারা মত দেন।
এ সময় তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— অবিলম্বে অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণসহ ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও অধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি উপস্থিত ছিলেন।





নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি দলের আচরণবিধি থাকা উচিত: জাইমা রহমান
১২ ফেব্রুয়ারি যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ
ইসির পিআর শাখার তালিকায় এখনো পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘পাশা’র নাম
বিদেশিদের কাছে বুধবার ভোটের প্রস্তুতি তুলে ধরবে ইসি
রংপুরে জিএম কাদেরের নির্বাচনি সভায় হামলা, মত প্রকাশের সময় শিক্ষার্থী ভোটার লাঞ্ছিত
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন
“জামায়াতের ভোটের শুরুটাই অনৈতিক”
ক্ষমতায় গেলে যে ২৬ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে জামায়াত 
