শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বৃহস্পতিবার ● ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
প্রচ্ছদ » জাতীয় » মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
৩ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১৩ আগস্ট ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

---

# শিক্ষকতা, রাজনীতি, পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে বিএনপি মহাসচিব

বিশেষ প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ। স্বাধীনতার পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু, পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ। জেলা বিএনপির সভাপতি থেকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় আগামী ২০ আগস্টের নির্বাচনে তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত। ইতোমধ্যে দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্বাচনের পর বঙ্গভবনে উঠবেন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার এই নেতা।

---

জন্ম ও ছাত্ররাজনীতি

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় জন্ম মির্জা ফখরুলের। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একাধিকবারের সংসদ সদস্য ও এরশাদ সরকারের মন্ত্রী। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

ছাত্রজীবনেই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়।

---

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে আবার শিক্ষকতায় ফিরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন। এ সময় সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনেসকো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন।

১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল। ২০১১ সালে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি। এবার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলীয় পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল।

---

ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নে উচ্ছ্বসিত তাঁর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও তাঁর বন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির পদ অলংকৃত করবেন— এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নয়, পুরো দেশবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তবে রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর নৈকট্য থেকে ঠাকুরগাঁওবাসী কিছুটা বঞ্চিত হবেন বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মির্জা ফখরুল। তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে তিনি দেশের জন্য কাজ করবেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুল বিবাহিত। স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাঁদের দুই মেয়ে। পরিবারের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।



বিষয়: #



আর্কাইভ