শিরোনাম:
ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
Swadeshvumi
রবিবার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিদেশি পর্যটক বাড়াতে বিশেষায়িত পর্যটন এলাকা গড়তে চাই: সামীমুজ্জামান
প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিদেশি পর্যটক বাড়াতে বিশেষায়িত পর্যটন এলাকা গড়তে চাই: সামীমুজ্জামান
১০ বার পঠিত
রবিবার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিদেশি পর্যটক বাড়াতে বিশেষায়িত পর্যটন এলাকা গড়তে চাই: সামীমুজ্জামান

মো. সামীমুজ্জামান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন

বিশেষ সাক্ষাৎকার 

সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন, হাওর, নদী, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—পর্যটনের বিচিত্র উপাদানে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। তারপরও আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি দেশ। বিদেশি পর্যটকের তুলনায় অভ্যন্তরীণ পর্যটকের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। অবকাঠামো, নিরাপত্তা, সেবার মান, আন্তর্জাতিক প্রচারণা এবং নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার ঘাটতিকে এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস সামনে রেখে দেশের পর্যটন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের উদ্যোগ, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, ধর্মীয় ও কমিউনিটি পর্যটন এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা নিয়ে স্বদেশভূমির বিশেষ প্রতিবেদক শায়লা শবনম কথা বলেছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের সঙ্গে।

 

  • ‘দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে নতুন গন্তব্য তৈরি, নিরাপত্তা ও সেবার মান আরও উন্নত করা হবে’: মো. সামীমুজ্জামান 

স্বদেশভূমি: দেশের পর্যটন খাত বর্তমানে অনেকটাই অভ্যন্তরীণ পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমেছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

মো. সামীমুজ্জামান: বিদেশি পর্যটক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে—এটা আমি বলব না। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কিছুটা কমেছে। আমার কাছে মনে হয়, গত বছর এবং এ বছরের শুরুর দিকে দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি পরিবেশ ছিল। সে কারণে বিদেশি পর্যটক তুলনামূলক কম আসতে পারেন।

তবে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে সরকারের পরিকল্পনা আছে, পর্যটন করপোরেশনেরও পরিকল্পনা আছে। আমাদের নতুন নতুন পর্যটন এলাকাগুলোকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে। দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন পর্যটন এলাকায় প্রয়োজনীয় স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা গড়ে তুলতে চাই।

 

মো. সামীমুজ্জামান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন

স্বদেশভূমি: বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

মো. সামীমুজ্জামান: আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে চাই। কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কুয়াকাটা, সিলেটসহ সম্ভাবনাময় এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে পর্যটনসুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিনিয়োগকারীদেরও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সম্পৃক্ত করতে চাই।

আমাদের পুরোনো হোটেল-মোটেলগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে।

স্বদেশভূমি: কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

মো. সামীমুজ্জামান: কক্সবাজারে পর্যটন করপোরেশনের যে স্থাপনাগুলো রয়েছে, সেগুলো আধুনিকায়ন করে একটি সমন্বিত পর্যটন অবয়ব তৈরি করার বিষয়ে একটি দল কাজ করছে। সেখানে শুধু হোটেল-মোটেল নয়, বিনোদনের জন্য বিভিন্ন আয়োজন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই, একজন পর্যটক সেখানে গিয়ে থাকা, ঘোরাঘুরি ও বিনোদন—সব ধরনের সুবিধা পান।

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের জন্য কিছু বিশেষ আয়োজন বা অনুষ্ঠানও প্রয়োজন। সরকার এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। পর্যটন খাতের পক্ষ থেকেও আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি। এসব আয়োজনকে পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।

 

স্বদেশভূমি: বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

মো. সামীমুজ্জামান: পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করেন। কিছু মানুষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড দিয়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

বর্তমানে পর্যটকদের জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তা ভালো। তবে এটিকে আরও উন্নত করা গেলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমি মনে করি।

 

মো. সামীমুজ্জামান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন

স্বদেশভূমি: বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা বা বিশেষায়িত পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার কথা বলছেন। বিষয়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করতে চান?

মো. সামীমুজ্জামান: আমি মনে করি, বাংলাদেশে বিদেশিদের জন্য একটি বিশেষায়িত পর্যটন এলাকা তৈরি করা যেতে পারে। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন। বিশ্বের অনেক দেশেই বিদেশি পর্যটকদের জন্য এ ধরনের বিশেষ এলাকা রয়েছে। বাংলাদেশেও এমন একটি ব্যবস্থা করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে।

সাবরাং পর্যটন পার্ক নিয়েও একসময় চিন্তাভাবনা করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে শুধু সাবরাং নয়, সুবিধাজনক অন্য কোনো জায়গাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

 

স্বদেশভূমি: পর্যটন উন্নয়নে কোন কোন পক্ষকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

মো. সামীমুজ্জামান: পর্যটন কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা ও প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

আমাদের দেশে ধর্মীয় পর্যটনেরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসেন। তারা শুধু নামাজ পড়া বা বয়ান শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; বিভিন্ন জায়গায় ঘোরেন, কেনাকাটা করেন। আবার সোলাকিয়া বা দেশের বড় বড় ধর্মীয় সমাবেশ দেখতেও বিদেশিরা আসেন। তাই ধর্মীয় পর্যটনকেও সামগ্রিক পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

স্বদেশভূমি: কমিউনিটি পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন কেন?

মো. সামীমুজ্জামান: আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কমিউনিটি পর্যটনকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে শুধু পর্যটনসংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশার মানুষ লাভবান হবেন—এমনটা হওয়া উচিত নয়। স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদেরও এর সুফলের অংশীদার করতে হবে।

যত বেশি মানুষকে পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে, পর্যটন তত বেশি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত না করে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

 

---

 

স্বদেশভূমি: দেশি না বিদেশি—কোন পর্যটককে বেশি অগ্রাধিকার দিতে চান?

মো. সামীমুজ্জামান: আমরা দেশি-বিদেশি উভয় পর্যটককেই সমানভাবে অগ্রাধিকার দিতে চাই। অভ্যন্তরীণ পর্যটন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিদেশি পর্যটকও প্রয়োজন। বিদেশি পর্যটক বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে এবং দেশের পর্যটন অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

এ জন্য আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করছি। বিভিন্ন খাতের মানুষের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

স্বদেশভূমি: ভবিষ্যতের মহাপরিকল্পনায় কী ধরনের বিষয় গুরুত্ব পাবে?

মো. সামীমুজ্জামান: আমরা শিগগিরই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অংশীজন আলোচনা করতে চাই। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকবে সেখানে। তাদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই।

আমার বিশ্বাস, পর্যটনকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশ শুধু আমার বা আপনার একার নয়। প্রত্যেকের দায়িত্ব আলাদা হতে পারে—কেউ কলম দিয়ে লেখেন, কেউ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন, কেউ ব্যবসা করেন, কেউ পর্যটনসেবা দেন। কিন্তু দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো পক্ষকে বাদ দিয়ে পর্যটনসহ কোনো খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।



বিষয়: #



আর্কাইভ