বুধবার ● ২০ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » জাল দলিল করে ৫০ বিঘা জমি ভোগদখল
জাল দলিল করে ৫০ বিঘা জমি ভোগদখল
# জালিয়াতি করতে চক্রটি জীবিত ব্যক্তিকে মৃত, আর মৃতকে জীবিত দেখিয়েছে
# জালিয়াত চক্রটি ৪০ বছর ধরে জমি দখলের দৌরাত্ম্য চালিয়ে যাচ্ছে
পাবনা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দীঘুলিয়া গ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বেরিয়ে এসেছে দলিল জালিয়াতি ৫০ বিঘা জমি-বাড়ি ভোগদখলের চাঞ্চল্যকর চিত্র। আদালতের নিষেধাজ্ঞা, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ এবং জমির মালিকদের অভিযোগে প্রকাশ্যে আসে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দখল-বাণিজ্যের নানা তথ্য।
সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, জাল দলিল ও ভুয়া ওয়ারিশান সনদ তৈরি করে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত এবং মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে প্রায় ৫০ বিঘা জমি ভোগদখল করছে একটি প্রভাবশালী মহল।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, বড়াল নদীর পাড়ঘেঁষা দীঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আ.খ.ম. সামছুল আলম (টুনু) বর্তমানে ঢাকায় সপরিবারে সুস্থভাবে বসবাস করছেন। অথচ তাকে কাগজে-কলমে মৃত দেখিয়ে ভুয়া ওয়ারিশান সনদ তৈরি করা হয়েছে। সেই জাল সনদের ভিত্তিতে তার পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের আরও বিস্ময়কর দিক হলো, টুনু সাহেবের প্রয়াত মা সুফিরা খাতুনকে মৃত্যুর পরও জীবিত দেখিয়ে তার নামে জমি বিক্রির দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নামে দলিল তৈরি ও সম্পত্তি হস্তান্তরের এমন ঘটনা এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, শুধু তাই নয়— অন্য এক ব্যক্তিকে টুনু সাহেবের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে জমি বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। এভাবেই একের পর এক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০ বিঘা বাড়িভিটা ও আবাদি জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখেছে ওই চক্র।
দলিল জালিয়াতির অভিযোগ
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের এক ভাই নাকি স্বীকার করেছেন, ওয়ারিশান সনদে টুনুকে মৃত দেখানো “ভুল” হয়েছে। তবে আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নথিতে জালিয়াতির শামিল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ারিশান সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল। সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হলে তা দণ্ডবিধি অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো কিংবা মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের নথিপত্র ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের আঘাত।
![]()
মসজিদের নামে জমি দখল
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। নির্মাণাধীন মসজিদের ভেতরে ভুক্তভোগী ইব্রাহিম সিপাহির ৪ শতাংশ এবং নুরুল ইসলামের ৩ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, জমি ফেরতের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া নির্মাণকাজের সময় জমির বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এলাকাবাসীর একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জালিয়াতির জমিতে আল্লাহর ঘর নির্মাণ করে নামাজ আদায় করা উচিত নয়।”
আদালতের স্থিতাবস্থা জারি
ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত মসজিদের নির্মাণকাজ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। বর্তমানে মসজিদটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফরিদপুর থানার ওসি শামীম আকঞ্জি বলেন, “আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জীবিতকে মৃত, মৃতকে জীবিত দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় নথিতে জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিপুল পরিমাণ জমি দখলের অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন— এই সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেবে কি না, আর ভুক্তভোগীরা আদৌ তাদের জমি ফিরে পাবেন কি না!
বিষয়: #জাল দলিল করে ৫০ বিঘা জমি ভোগদখল





সৌদি পৌঁছেছেন ৬৫,৫৯২ জন হজযাত্রী
বাংলাদেশে ঈদুল আজহা ২৮ মে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংঘাতহীন দলগুলোর সহায়তা চাই: সিইসি
বাংলাদেশের সব ইতিহাসকে একসঙ্গে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে : তানজিম ওয়াহাব
স্ত্রী-তিন মেয়েসহ ৫ খুন: ‘আত্মহত্যা’ করেছে ঘাতক ফোরকান
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ
হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তথ্য প্রকাশ করলো ইসি 
