মঙ্গলবার ● ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রচ্ছদ » অপরাধ » অনুমতি ছাড়া কারো ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার: সংসদে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
অনুমতি ছাড়া কারো ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার: সংসদে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে সেটা নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় দ্রুত বিচারযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে- সংসদে এমন তথ্য জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকেই অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির মতো অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। এ ধরনের সব ঘটনাই সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আর ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে এসব অপরাধের তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করে বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রবণতা রোধে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ কার্যকর করেছে, যা ১০ এপ্রিল সংসদে পাস হয়। আইনটির ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন, সেক্সটরশন বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কোনো ভিডিও, ছবি বা তথ্য প্রচার, সংরক্ষণ বা হুমকি প্রদানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে ধারা ২৫(৩) অনুযায়ী শাস্তি বেড়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া চাঁদা দাবির বিষয়টি ধারা ২২-এর আওতায় ‘সাইবার স্পেসে প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য হবে, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখে এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিতে পারে। ধারা ৯ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার সার্বক্ষণিকভাবে এসব অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করবে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা রাখা হয়েছে ধারা ৩৫-এ। এতে তদন্ত ও আইন প্রয়োগ আরও দ্রুত হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি গঠন করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ নিয়োগ বাধ্যতামূলক। এই সংস্থা দেশব্যাপী অননুমোদিত ভিডিও ধারণ ও প্রচারের অভিযোগ মনিটর করবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি যেমন এআইভিত্তিক মনিটরিং, ক্লাউড সিকিউরিটি সলিউশন (SOAR, EDR, XDR) এবং গ্লোবাল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সাইবার অপরাধ শনাক্ত করা হবে। বিদেশ থেকে পরিচালিত অপরাধও পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
মন্ত্রী জানান, তদন্ত কার্যক্রম সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে। এছাড়া ব্লক বা অপসারিত কনটেন্টের তথ্য ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন সাপেক্ষে জনসম্মুখে প্রকাশের বিধানও রাখা হয়েছে।
বিষয়: #অনুমতি ছাড়া কারো ভিডিও প্রচার করলে সাইবার সুরক্ষা আইনে





‘ভালো বাপ, ভালো স্বামী হতে পারিনি, ক্ষমা করিস’: জুয়েল হাসান সাদ্দাম
প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
মনিরামপুরে প্রকাশ্যে যুবককে গুলি করে হত্যা
রাউজানে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
হাদি হত্যাকাণ্ড: মূল আসামি ফয়সালের ভিডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে ডিএমপি
হাদি হত্যাকাণ্ডে ফের রিমান্ডে কবির
নোয়াখালীতে চর দখল নিয়ে দুই পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৫
ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬৪৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ: আসামি সিকদার পরিবারসহ ৩১
ওসমান হাদি মারা গেছেন 
