সোমবার ● ১ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণ, বর্ণাঢ্য রাজনীতিকের জীবনাবসান
তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণ, বর্ণাঢ্য রাজনীতিকের জীবনাবসান
![]()
# বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাকে দীর্ঘ ৩৩ মাস কারাবন্দি রাখা হয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মহানায়ক, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের রাজনীতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই রাজনীতিক সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তার বাবা মৌলভী আজহার আলী এবং মা ফাতেমা বেগম। শিক্ষাজীবনে তিনি ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে দ্রুতই আলোচনায় আসেন। ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের ভিপি এবং ১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। সেই সময় পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি।

১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। গণআন্দোলনের চাপে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ। রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেয় সেই মুহূর্ত।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক চার প্রধানের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় নিজের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের ইতিহাসে ৯ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। ভোলা-১ আসনকে তিনি দীর্ঘদিন প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সর্বশেষ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দলীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মন্ত্রী হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের বাণিজ্য খাতে নানা নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।

রাজনৈতিক জীবনে সংগ্রামও কম ছিল না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর মতো তাকেও নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়। সে সময় টানা ৩৩ মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে।
দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।
একজন রাজনীতিকের চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন জীবন্ত সাক্ষী, গণ-অভ্যুত্থানের একজন অগ্রসৈনিক এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রায় তিনি দেশের রাজনীতিতে রেখে গেছেন এক অনন্য ছাপ।
তার প্রয়াণে শুধু একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিকের জীবনাবসান হয়নি; অবসান ঘটেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের।
বিষয়: #তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণ #বর্ণাঢ্য রাজনীতিকের জীবনাবসান





ছুটি শেষে সচিবালয়ে ঈদের আমেজ, কর্মব্যস্ততা শুরু
‘আমি পাপ করেছি আমাকে শাস্তি দিন’: আসামি সোহেল
চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক থাকার আহ্বান জানালো এনবিআর
শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই 
