বুধবার ● ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » চরমপন্থা ও উগ্রবাদ দমনে ’জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা
চরমপন্থা ও উগ্রবাদ দমনে ’জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা
বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক
চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে নাগরিকদের সব ধরনের সরকারি সুবিধা একীভূত করে চালু করা হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এদিনই ২৬ কার্যদিবসব্যাপী বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ঋণনির্ভর নয়, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, কক্সবাজারকেন্দ্রিক পর্যটনের মহাপরিকল্পনা এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী করার রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে সংসদে সব দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উগ্রবাদ দমনে আপসহীন অবস্থান
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। উগ্রবাদ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে। জনগণের নিরাপত্তা জোরদারে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ কারণেই সরকার এ বিষয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরে গৃহীত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। একই সঙ্গে নির্বাচনী ৩১ দফাকে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি এখন জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তার ভাষায়, বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনই সরকারের মূল লক্ষ্য।
শিক্ষা-স্বাস্থ্য ধ্বংসের অভিযোগ, পুনর্গঠনের রূপরেখা
সমাপনী বক্তব্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার একটি বিশেষ দেশ ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করাই যথেষ্ট।” তাই বিতর্কিত শিক্ষাক্রম বাদ দিয়ে আধুনিক, মানবিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থাকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—উভয় খাতেই জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সারা দেশে এক লাখ হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনায় ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একীভূত করে একটি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক একই পরিচয়ের ভিত্তিতে সরকারি সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা, ভর্তুকি ও কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। তিনি আরও জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ইতোমধ্যে ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
ঋণ নয়, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি
অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায়। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে পড়েছে।
সরকার তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, ব্লু ইকোনমি, পরিবেশবান্ধব শিল্প, ইকো-ট্যুরিজম ও উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে চায় বলে জানান তিনি। দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ২৫ কোটি বৃক্ষ
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি বছর পাঁচ কোটি করে চারা রোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার নতুন নার্সারি গড়ে তোলা হবে এবং প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়— ন্যায়, গণতন্ত্র, জবাবদিহি, বৈষম্যহীনতা এবং উগ্রবাদমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই হবে সরকারের পথচলার মূল দর্শন।
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই, শহিদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ও গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে গবেষণাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
বন্দর, নগর ও পর্যটনে বড় পরিকল্পনা
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে পতেঙ্গা ও লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল, নিয়মিত ড্রেজিং, পেপারলেস পোর্ট, ই-পেমেন্ট, ই-গেট পাস এবং আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীর পার্ক, ফুটপাত ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের শত শত পার্ক, মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মহানগরেও একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানান।
একই সঙ্গে কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো, আধুনিক হোটেল, পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার এবং পিপিপিভিত্তিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশজুড়ে পর্যটন শিল্পের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন।
বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা হবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড
দেশে ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও সংযোজনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে উল্লেখযোগ্য শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ স্থানীয় প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিরোধীদলীয় নেতার দুর্নীতিবিরোধী আহ্বান
সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন এবং জাতীয় সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলনের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। তিনি উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য দূর, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধ, সংসদে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং কার্যপ্রণালী বিধির কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
পরিসংখ্যানে দ্বিতীয় অধিবেশন
২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশনে বাজেটের ওপর ১৪ কার্যদিবসে ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় অংশ নেন ২৫ জন সদস্য। অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়। কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী ৭১৫টি নোটিশ জমা পড়ে, যার মধ্যে ২৪টি গৃহীত হয় এবং ২২টির ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ৭১(ক) বিধিতে ১২৫টি দুই মিনিটের নোটিশ এবং ১৩১ বিধিতে চারটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য জমা পড়া ২৭৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টির উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য জমা পড়া ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্নের মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টির উত্তর দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ ১১টি কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। এর আগে প্রথম অধিবেশনে গঠিত আটটি কমিটিসহ দুই অধিবেশনে বিশেষ কমিটিসহ মোট ১৯টি সংসদীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় তদারকি, জবাবদিহি ও আইন প্রণয়ন কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
বিষয়: ##প্রধানমন্ত্রী #চরমপন্থা ও উগ্রবাদ দমন #’জিরো টলারেন্স’





প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চট্টগ্রাম চেম্বারের ১ কোটি টাকা অনুদান
ডেঙ্গু মোকাবিলায় মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
স্থগিতের দাবির মধ্যেই চলছে এইচএসসি পরীক্ষা
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিল সংসদে পাস
৫ আগস্টের মধ্যেই জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন: সংস্কৃতিমন্ত্রী
মন্তব্য ছিলো ব্যক্তিগত, সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
দুর্নীতির শিকারে শীর্ষে ময়মনসিংহ, ঘুষ দেওয়াতে খুলনা: টিআইবি
শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর, প্রয়োজনে ফল ইমপ্রুভ ও পুনরায় পরীক্ষার আশ্বাস 
