শিরোনাম:
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
Swadeshvumi
সোমবার ● ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » অর্ধেক নারী এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে
প্রচ্ছদ » জাতীয় » অর্ধেক নারী এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে
৩৬ বার পঠিত
সোমবার ● ২০ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

অর্ধেক নারী এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে

বিবিএস জরিপ-২০২৬

---

# ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮৪.৪ শতাংশের প্রধান দক্ষতা কপি-পেস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ, শহর-গ্রামের বৈষম্য এবং ব্যয়জনিত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এমন চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএসের সম্মেলন কক্ষে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। এ সময় বিবিএসের মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জরিপের তথ্য বলছে, দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার বর্তমানে ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে নারী-পুরুষের ব্যবহারে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। পুরুষ ব্যবহারকারীর হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছেন, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ধরনের বৈষম্যও উঠে এসেছে জরিপে। শহর এলাকায় ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও গ্রামে এ হার মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে, যা দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থার অসম বিকাশকে নির্দেশ করে।

প্রযুক্তি ব্যবহারে অঞ্চলভিত্তিক পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে। পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে রাজধানী ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে এগিয়ে, বিপরীতে পঞ্চগড়ে এ হার সবচেয়ে কম। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও ঠাকুরগাঁও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে দেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো খুবই সীমিত—মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করেন।

ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের তথ্য খুঁজেছেন। পাশাপাশি ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলা বিষয়ক তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী এই সেবা গ্রহণ করেছেন।

ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের বড় অংশ এখনো মৌলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। জরিপ অনুযায়ী, ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর প্রধান দক্ষতা কপি-পেস্ট করা। উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতার ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের শিকার হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তবে ঝুঁকির জায়গাও রয়েছে—৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও তথ্যবিনাশী কার্যক্রমকে ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে ইন্টারনেট সেবার উচ্চমূল্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ব্যয়বহুল হওয়ায় তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী।

সব মিলিয়ে বিবিএসের এই জরিপে স্পষ্ট হয়েছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও দক্ষতা উন্নয়ন, সবার জন্য সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করা এবং শহর-গ্রামের ডিজিটাল বৈষম্য কমানো এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

 



বিষয়: #



আর্কাইভ