শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Swadeshvumi
সোমবার ● ১ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » অপরাধ » রামিসা হত্যায় আরেকজনকে জড়িয়ে বিভ্রান্তির চেষ্টায় সোহেল
প্রচ্ছদ » অপরাধ » রামিসা হত্যায় আরেকজনকে জড়িয়ে বিভ্রান্তির চেষ্টায় সোহেল
০ বার পঠিত
সোমবার ● ১ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রামিসা হত্যায় আরেকজনকে জড়িয়ে বিভ্রান্তির চেষ্টায় সোহেল

---

# আমি শুধু বাচ্চাটারে দুই টুকরো করেছি, ধর্ষণ করে মারছে ডলার 

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নতুন করে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার দাবি তুললেও পুলিশ বলছে, এটি বিচারকাজ বিলম্বিত ও তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা।

সোমবার ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক মাসরুর সালেকীন। আদালতের কার্যক্রম শেষে কারাগারে নেওয়ার পথে সোহেল সাংবাদিকদের উদ্দেশে দাবি করেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন ডলার নামের এক ব্যক্তি।

সোহেল বলেন, “আমি ধর্ষণ করি নাই। ধর্ষণ করেছে ডলার। আমার দোষ আছে, কিন্তু আমি শুধু লাশ কাটছি। ডলারই ধর্ষণ করছে, মারছেও ডলার।”

তিনি আরও দাবি করেন, রামিসাকে নিয়ে যেতে পারলে ওই ব্যক্তি তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে সোহেলের এমন বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, তদন্তে ঘটনাস্থলে সোহেল ও তার স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্নভাবে নিশ্চিত হয়েছি ঘটনাস্থলে আর কেউ আসেনি। এখন সে (সোহেল) নিজেকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে এসব বলতে পারে। বিচারকাজ বিলম্বিত করা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই তার উদ্দেশ্য হতে পারে।”

ওসি আরও বলেন, “সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও আমাদের জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে অন্য কেউ ছিল না। আমরা সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছি। সেখানে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।”

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।

মামলার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ভবনের একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকা সোহেল রানা শিশুটিকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ বিকৃত করা হয়। ঘটনার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। বাসা থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয় এবং পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষ করে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

সোমবার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, রামিসাকে বাসায় ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং পরে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে দেহ বিকৃত করা হয়। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে আদালত তা নাকচ করে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

আদালত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে আদালতে ও আদালত প্রাঙ্গণে সোহেলের নতুন দাবি ঘিরে আলোচনা তৈরি হলেও পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে এবং ‘ডলার’ নামে কাউকে জড়িয়ে দেওয়া আসামির আত্মরক্ষামূলক কৌশল ছাড়া অন্য কিছু নয়।

 



বিষয়: #



আর্কাইভ