বুধবার ● ২৬ জুলাই ২০২৩
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ভূমি ও সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জরুরি: সেমিনারে বক্তারা
ভূমি ও সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জরুরি: সেমিনারে বক্তারা
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারীর উত্তরাধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠা এবং ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এএলআরডি ও স্ট্যান্ড ফর হার ল্যান্ড ক্যাম্পেইনের উদ্যোগে ‘সংবিধান, আইন, নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক চুক্তির আলোকে ভূমি ও সম্পত্তিতে নারী ও ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার’ শীর্ষক সেমিনার তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডির উপনির্বাহী পরিচালক এবং স্ট্যান্ড ফর হার ল্যান্ড ক্যাম্পেইনের কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর রওশন জাহান মনি। এসময় তিনি নারীর ভূমি ও কৃষির অধিকার, খাসজমির অধিকার, ভূমি কেন্দ্রিক নারীর স্বাক্ষরতার অবস্থা, উইমেন পীচ এ্যান্ড সিকিউরিটি ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় অঙ্গিকারের বাস্তবায়ন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষায় রাষ্ট্রের অবহেলাসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তার প্রতিকারের দাবি জানান। এছাড়াও তিনি সুনির্দিস্টভাবে ৩০টি সুপারিশ তুলে ধরেন।
এএলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শিরীন আখতার। সেমিনারে নারীর ভূমিসহ সম্পদে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার সুরক্ষায় একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
প্যানেল আলোচনায় মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আইন, বিবাহ-তালাক, সন্তানের অভিভাবকত্ব-এই তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে আমরা অভিন্ন পারিবারিক আইনের কথা বলেছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। তিনি আরো বলেন এই আইন হলে নারীর ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
![]()
নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, নারী ও ট্রান্সজেন্ডারের ভূমি আন্দোলনের বিষয়টি শুধু আলোচনায় আনলে হবে না। এই আন্দোলনে সুধী সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করতে হবে।
রাঙামাটি চাকমা সার্কেলের উপদেষ্টা রাণী য়েন য়েন বলেন, আদিবাসী সমাজে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি জাতি এবং সমতলে ৪৪টি জাতি আছে। প্রত্যেকটি জাতির আলাদা আলাদা ভূমি বন্টনের নিয়ম আছে, বৈষম্যও আছে। আদিবাসী সমাজের ক্ষেত্রে অভিন্ন পারিবারিক আইন দরকার আছে। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে আদিবাসীদের আত্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা খর্ব হবে কিনা- এ বিষয়টিকে নিবিড়ভাবে চিন্তা করা দরকার।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার বলেন, বিশ্বব্যাপী নারীর ভূমির অধিকারের ক্ষেত্র অসম। ভূমিতে নারীর সমঅধিকারের বিষয়টি যেমন বৈশ্বিক, তেমনি অনেক বেশি স্থানিক বিষয়। আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, গণমাধ্যম সবকিছুই কাঠামোবদ্ধ। সেজন্য আমরা বৈচিত্র্যতাকে ধরে রাখতে পারি না। এই কাঠামোগত জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ও অধ্যাপক ড. সীমা জামান বলেন, বাংলাদেশ ২০১৩ সালে ট্রান্সজেন্ডারদের স্বীকৃতি দিয়েছে। ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়ণের প্রক্রিয়া চলমান। ট্রান্সজেন্ডারসহ নারীর উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন দরকার। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে যেমন কাজ করা দরকার, তেমনি সরকারের সাথেও কাজ করতে হবে।
এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, আমরা ক্ষমতাবান নই। রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা আছে, প্রয়োগ করার ক্ষমতা আছে। রাষ্ট্র যেভাবে আইন প্রণয়ন করে, সে প্রক্রিয়াটি বৈষম্যমূলক, নারী বিদ্বেষী, পিতৃতান্ত্রিক, আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য বঞ্চনামূলক। এই আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক হতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, নারীর সমঅধিকার আদায়ের জন্য রাষ্ট্রের সাথে দর কষাকষির জায়গাটায় আমাদের অবস্থানটা প্রস্তুত করতে হবে। আদিবাসীদের আত্ম নিয়ন্ত্রণের অধিকার, নারীর সম-অধিকার, নারীর অধিকার সমস্ত বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে নারীদের সামগ্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। যত বেশি আমরা আমাদের অধিকারের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তুলতে পারবো, কথা বলতে পারবো, ততবেশি আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের পথে এগিয়ে যেতে পারবো। লড়াইয়ের জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। সংগঠনসমূহকে শক্তিশালী করতে হবে, লড়াইকে সুনির্দিষ্ট করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে খুশী কবির বলেন, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সংগঠিত হতে হবে। বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
এছাড়াও আলোচনায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত প্রদান করেন। পরে মুক্ত আলোচনা পর্বে- জয়া হিজড়া, জাহানারা বেগম, মুসকান হিজড়া, ড: ফরিদা পারভিন কেয়া, সারা মারান্ডি, সুধা সরকার, সুলেখা ম্রং প্রমুখ তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
বিষয়: #ভূমি ও সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন





ফেব্রুয়ারিতে সড়কে নিহত ৪৩২ জন : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস
নারীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: তারেক রহমান
সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে এমিরেটস
খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ইরাকে ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু
ঈদের খুশি কিনতে নিম্নবিত্তদের সামর্থ্যের সঙ্গে যুদ্ধ
মেট্রোরেলে শিক্ষার্থী-প্রতিবন্ধীদের ২৫ শতাংশ ভাড়া মওকুফ
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার ও ৩ উপ-প্রেস সচিব নিয়োগ
সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৯ কিলোমিটার যানজট: চলাচলে ভোগান্তি 
