শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Swadeshvumi
সোমবার ● ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই : ইসি সচিব
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই : ইসি সচিব
১৪ বার পঠিত
সোমবার ● ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই : ইসি সচিব

---

  • # ইউপি নির্বাচন হবে কয়েকটি ধাপে, উপজেলাভিত্তিক 
  • # সব নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের সাংবাদিকদের অনলাইনে কার্ড দেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকারের তৃনমূল পর্যায়ের নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন ও বিস্তৃত পরিকল্পনার পথ ধরে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের উপনির্বাচনের সময়সূচি বা তফসিল চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনও আয়োজন করা হবে উপজেলাভিত্তিক ও কয়েকটি ধাপে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কাভার করা সংগঠন ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (আরএফইডি)-র পরিচালনা পর্ষদ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

উপজেলাভিত্তিক ইউপি ভোট 

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্বের কিছু জটিলতা পরিহার করে এবার মাঠপর্যায়ের সমন্বয়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে কমিশন। ইসি সচিব জানান, পূর্বে একাধিক ধাপে একই উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন ইউনিয়নে ভোট হওয়ায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুষম বণ্টন বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। সেই প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এবার একটি নির্দিষ্ট উপজেলার আওতাধীন সকল ইউনিয়ন পরিষদে একই ধাপে ভোটগ্রহণের নীতিগত রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে চায় ইসি।

তবে পুরো ইউপি নির্বাচন প্রক্রিয়াটি শেষ করতে কয়টি ধাপ প্রয়োজন হবে—পাঁচটি নাকি ছয়টি—সেটি আগামী কমিশন সভায় আলোচনার পরই নীতিগতভাবে নির্ধারণ করা হবে। সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের ভেতর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি বা তফসিল ঘোষণা করে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই ভোটগ্রহণ শুরুর যে প্রাথমিক লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে, ইসি সে পথেই এগোচ্ছে। ইউপি পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।

বিধিমালা সংশোধন ও প্রচারণায় পরিবর্তন

মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও প্রচারণা ব্যবস্থার পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ বর্তমানে জোরকদমে চলছে। সংশোধিত এই প্রক্রিয়ায় পরিবেশদূষণ রোধ ও অহেতুক খরচ কমাতে প্রথাগত কাগজের পোস্টার টানানোর সুবিধা তুলে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে। তবে সংশোধনীর অন্যান্য শর্ত বা প্রদেয় বাধ্যবাধকতা পরবর্তীতে পরিপত্র জারি করে গণমাধ্যমকে বিশদ জানানো হবে।

---

সাংবাদিকদের ডিজিটাল কার্ড ও নিরাপদ ব্যবস্থা

সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য প্রক্রিয়াকে আধুনিক করতে সংসদীয় উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার সহ পরবর্তী সকল জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সংবাদকর্মীদের অনলাইনে অ্যাক্রেডিটেশন বা পাস কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিরাপদ ও কার্যকর এক সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে।

এ কাজের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব দিক তদারকির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আলমকে প্রধান করে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। উক্ত কমিটিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের কারিগরি সুপারিশ ও সার্বিক কাজের প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন সংবাদভিত্তিক কার্ড ও সুরক্ষা বিতর্ক

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দ্রুততা দেখাতে গিয়ে পর্যাপ্ত সিকিউরিটি টেস্টিং ছাড়া একটি অনলাইন কার্ড বিতরণ ব্যবস্থা চালু করেছিল ইসি। সে সময় কারিগরি ত্রুটির দরুন প্রায় ১৪ হাজার পেশাদার সংবাদকর্মীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত বা ফাঁস হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠলে গণমাধ্যমের তীব্র ক্ষোভের মুখে সেই অনলাইন ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয় পূর্বতন প্রশাসন।

সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বৈঠকে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী জোর দাবি জানান যে, অতীতে অনেক রাজনৈতিক অপেশাদার কর্মী সাংবাদিক পরিচয়ে পাশ কার্ড সুবিধা ভোগ করেছে। তাই নির্বাচনের আস্থাশীলতা রক্ষায় এবার যেন কোনো অপেশাদার সুযোগ না পায় এবং সাংবাদিকদের পেশাগত তথ্য ও অনলাইন নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রেখে এই অনলাইন পাস প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ইসি সচিব নিশ্চিত করেন যে, অংশীজনদের পূর্ণ মতামতের তোয়াক্কা করেই এবার একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বচ্ছ ডিজিটাল রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।



বিষয়: #



আর্কাইভ