শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Swadeshvumi
রবিবার ● ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে বার্ষিক পরীক্ষার আগে বা পরে
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে বার্ষিক পরীক্ষার আগে বা পরে
১৬ বার পঠিত
রবিবার ● ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে বার্ষিক পরীক্ষার আগে বা পরে

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও অন্যান্য পরীক্ষা বিবেচনায় নিয়ে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষার আগে অথবা পরে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কমিশন। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে সংস্থাটি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে।

পরীক্ষার সঙ্গে ভোটের সময়সূচির সংঘাত এড়ানোর পরিকল্পনা

নির্বাচন কমিশনার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা, টেস্ট ও প্রি-টেস্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ফলে পরীক্ষা ও ভোটের সময়সূচি যাতে একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে পরীক্ষার আগে অথবা পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, একসঙ্গে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন। তাই ধাপে ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ব্যয় সংকোচনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।

সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোনও ব্যবহার করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচনী পরিবেশ আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করা। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানেরও চেষ্টা চলছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতা নিয়ে আইন সংশোধনের সুপারিশ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়েও কথা বলেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক নির্বাচনে প্রার্থী হলে একই সময়ে তাঁর সহকর্মীদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং নির্বাচনে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বিষয়টি নিয়ে আইন সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আইন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিসভা এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ভোটার স্থানান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম। নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বিধি অনুযায়ী ভোটার স্থানান্তরের কাজ পরিচালনা করা হয়।

খুব শিগগিরই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের তফসিলও অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সংসদীয় আসনটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এ জন্য কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচনে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ রয়েছে।

গত ২২ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। এর আগে ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়।

চট্টগ্রাম-৪ নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে কমিশনের নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।

ইসি সূত্রের প্রস্তুতি অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধি, ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি, নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিসহ বিভিন্ন কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বরেই তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে কমিশন।



বিষয়: #  #



আর্কাইভ