শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Swadeshvumi
রবিবার ● ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের ওপর আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের ওপর আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ
২৩ বার পঠিত
রবিবার ● ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের ওপর আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও জনমত যাচাইয়ের দাবির মধ্যেই জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। তবে গতকাল রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাসের আগে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হয়। বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের দাবি উঠলেও তা নাকচ করা হয়। 

বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের একাংশের অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মায়ের সম্পত্তি সন্তানের নামে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আজীবন ভোগদখলের সুযোগ রাখা হলেও এটি মুসলিম পারিবারিক আইন, হেবা ও উত্তরাধিকার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তারা বিলটি জনমত যাচাই এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের জন্য পাঠানোর দাবি জানান। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিরোধীদের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর তারা কিছু সময়ের জন্য ওয়াকআউট করেন।

আলোচনার শুরুতে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেন বিলটিকে কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী দাবি করেন। তার বক্তব্য, আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ আল্লাহর নির্ধারিত মিরাসি বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাবা-মায়ের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও তিনি বলেন, এ জন্য বিদ্যমান পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে; মুসলিম পারিবারিক আইনের কাঠামো পরিবর্তন করা সমীচীন নয়।

তবে বিলটির মানবিক দিকের প্রশংসা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সন্তানের হাতে বাবা-মায়ের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও যাতে বাবা-মা নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সে জন্য বিলের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সন্তান বাবা-মাকে অবহেলা করলে দাতা যেন এককভাবে দলিল বাতিলের আবেদন করতে পারেন, সেই সুযোগ রাখার পাশাপাশি সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর বা বন্ধক দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার সুপারিশ করেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালও বাবা-মায়ের শেষ জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিলটি আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান বিলটিকে শরিয়তের ওপর কৌশলী আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, কয়েকজন সন্তানের অপকর্মের কারণে ইসলামী পারিবারিক আইনের মূল কাঠামো পরিবর্তন করা উচিত নয়। তিনি ইসলামিক স্কলারদের মতামত নিয়ে বিলটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল আলিম বলেন, আবেগ বা মানসিক চাপে বাবা-মা সর্বস্ব দান করে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধানে ইসলামী নীতির আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগার, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাসুদ পারভেজ এবং পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলামও বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও আলেম-ওলামাদের মতামত নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেন।

শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী হেবা সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য বাস্তব দখল বা ‘কব্জা’ হস্তান্তর গুরুত্বপূর্ণ। কাগজে মালিকানা দিয়ে দখল নিজের কাছে রেখে দেওয়ার বিধান হেবার প্রচলিত ধারণাকে পরিবর্তন করতে পারে। তাই এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তনে জনমত নেওয়া প্রয়োজন।

বিতর্কের একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাবা-মায়ের সুরক্ষার মতো মানবিক উদ্যোগকে তারা নীতিগতভাবে সমর্থন করেন। তবে বিলের প্রয়োগ ইসলামী উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিলটি পাস না করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে পুনঃপরীক্ষার দাবি জানান তিনি।

পরে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ১২২অ ধারায় সম্পত্তি হস্তান্তরের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তা একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এটি বিদ্যমান হেবা, সাধারণ দান বা শরিয়াহ আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বৈধতাকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন, সীমিত বা প্রভাবিত করবে না।

আইনমন্ত্রী বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা, বিনিময় ও দান—এই বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাধারণ গিফটের একটি পৃথক কাঠামো যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে মুসলিমদের হেবা ও উত্তরাধিকার আইন আগের মতোই প্রযোজ্য থাকবে।

সরকারের ব্যাখ্যার পরও বিরোধী দলের আপত্তি অব্যাহত থাকে। জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। পরে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

 



বিষয়: #



আর্কাইভ