মঙ্গলবার ● ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » গণমাধ্যম » সাংবাদিক-শিল্পীদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ
সাংবাদিক-শিল্পীদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কয়েকজন সাংবাদিক, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বাধীন বিকাশ এবং পেশাগত নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ভিত্তিহীন বা হয়রানিমূলক অভিযোগের অপব্যবহার বন্ধ হওয়া জরুরি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জুলাই ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ২৮ জন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা-অভিনেত্রী, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানির অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, আজিজুল হাকিম, আসাদুজ্জামান নূর, সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও সোমা ইসলামসহ মোট ২৮ জন।
বিবৃতিদাতারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই অধিকার কখনোই শিল্পী, সাংবাদিক বা নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, পেশাগতভাবে হয়রানি করা কিংবা ভিন্নমতকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। অভিযোগের ভিত্তি, প্রমাণ ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা যাচাই ছাড়া জনসমক্ষে এ ধরনের পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
তারা আরও বলেন, শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক পূর্বশর্ত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা সমালোচনার কারণে শিল্পী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে এবং সমাজে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। তাই আইন যেন ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে কোনো নাগরিককে পেশাগত বা সামাজিকভাবে হয়রানির সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তি, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
কবি ও প্রকাশক আরিফ নজরুল এবং কবি-কলামিস্ট মীর রবির পাঠানো এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের মোট ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা হলেন- একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন নবী, কবি নির্মলেন্দু গুণ, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, রহীম শাহ, অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ, অধ্যাপক এস এম মাসুম বিল্লাহ। কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদ হাসান, কথাসাহিত্যিক ড. মুকিদ চৌধুরী, শিক্ষক ও লেখক ড. প্রদীপ মাহবুব, লেখক ও গবেষক সুজাত মনসুর, শিক্ষক ও গবেষক ড. ফরিদ আহমেদ, শিশুসাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী, কবি ও প্রকাশক আরিফ নজরুল, কবি ও সম্পাদক হাসানআল আব্দুল্লাহ, চিকিৎসক ডা. সাজিয়া আফরিন ও ডা. শঙ্খময় ঘোষ, কবি অনিকেত শামীম, সহযোগী অধ্যাপক ড. শিবলী চৌধুরী, কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ড. মাসুদ পথিক, সংগঠক স্বীকৃতি বড়ুয়া, বিজ্ঞান লেখক আবদুল গাফ্ফার রনি, সাংবাদিক আবু সালেহ রনি ও জুয়েল রাজ, গবেষক দেওয়ান গৌস সুলতান এবং লেখক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ হরমুজ আলী।
এই তালিকায় আরও রয়েছেন- কথাশিল্পী ও অনুবাদক সোহরাব সুমন, সাংবাদিক সাব্বির খান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক কর্মী মিজানুর রহমান খান, সাংবাদিক মেহেদী হাসান, কথাসাহিত্যিক ড. সাখাওয়াত নয়ন, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক তুষার আহমেদ, সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট শায়লা আহমেদ লোপা, কবি ফকির ইলিয়াস, ছড়াকার ও গীতিকার সিরাজিয়া পারভেজ, কথাসাহিত্যিক শামস সাইদ, লেখক সঞ্জয় সরকার, কবি কাইয়ুম খান, গল্পকার খালেদ চৌধুরী, কবি নূরজাহান নীরা, কবি ও কলামিস্ট মীর রবি, সচেতন নাগরিক রাবেয়া মিতু, কবি সৈয়দ হেলাল সাইফ, কবি মাহমুদা সুলতানা, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, কবি স্বপ্নীল ফিরোজ ও কবি মিলন সব্যসাচী।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- লেখিকা শামীমা আক্তার, কবি মাহমুদ নোমান, লেখিকা ফারজিনা আক্তার, অ্যাক্টিভিস্ট সরোয়ার সবুর, কবি সরোয়ার জাহান, অভিনেতা জামশেদ শামীম, সাংস্কৃতিক কর্মী মনিরা বুবলী, কথাসাহিত্যিক ও সম্পাদক রাশেদ রেহমান, আইনজীবী ও লেখক আয়েশা জেবীন, শিক্ষক ও সাংবাদিক লিটন কুমার ঢালী, সাংবাদিক অসীম কুমার দেবনাথ, গল্পকার ও সম্পাদক আলমগীর মাসুদ, প্রকাশক আলমগীর রুমী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিককর্মী জাহাঙ্গীর হোসেন, কবি ও প্রকাশক অজয় কুমার রায়, লেখক ও গবেষক আলমগীর শাহরিয়ার, সাহিত্যিক আপন অপু, সাংবাদিক ও লেখক মেহেদী হাসান, প্রযোজক ও পরিবেশক শেখ শাহ আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট এইচ এম এ হক বাপ্পি, লেখক ও প্রকাশক রবীন আহসান, অ্যাক্টিভিস্ট আকরামুল হক, যুব সংগঠক এম এম মেহেরুল, কবি মানিক বৈরাগী, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস এবং পেশাজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
তালিকায় আরও আছেন- সাংস্কৃতিককর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহরিয়ার রিয়ন, কবি ডাল্টন সৌভাত হীর, বাচিক শিল্পী মাহমুদুল হাসান, কবি ও গবেষক নিয়াজ আল কাজী, কবি ইলা লিপি, কবি সোহরাব সুমন, সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর, কবি ও চারুশিল্পী রিঙকু অনিমিখ, কবি অয়ন্ত ইমরুল, সাংবাদিক মুহাইমিনুল ইসলাম, গীতিকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শরীফুল ইসলাম সরকার, কবি ও আবৃত্তিশিল্পী শামীমা আফরোজ হ্যাপি, গণমাধ্যম কর্মী আল আমিন হোসেন, কবি বিমল সাহা, কবি বকুল মোহাম্মদ, কবি ইলিয়াস শাহীন, কবি সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি, ছড়াকার আব্দুল অদুদ, সাংবাদিক চন্দন সেনগুপ্ত, সাংবাদিক সাকিব হাসান, কবি বাপ্পী চৌধুরী, কবি আলী আকবর বাবুল, প্রাবন্ধিক ও কবি দীপ্তি ইসলাম, ছড়াকার ও প্রকাশক নাফে নজরুল, কবি ও সাংবাদিক মেহেদী হাসান শোয়েব, শিশুসাহিত্যিক ইমরান পরশ, কবি শামীমা সুলতানা, কবি ও শিশুসাহিত্যিক খালেদ সরফুদ্দিন এবং কবি কামরুল ইসলাম।
বিষয়: #সাংবাদিক-শিল্পীদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: ১০১ ব





সাংবাদিক ফরিদা আখতার খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আবুল হাসনাত : প্রতিষ্ঠান ছিল যার সাধনা
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি: পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ
গুজব প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি: তথ্য মন্ত্রী
জিএমএসএস’র নির্বাচন সেপ্টেম্বরে, ৬ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন
স্বাধীন সম্পাদকীয় ঐক্যের আহ্বান সম্পাদকদের
সাংবাদিকরা বাঁচলে দেশের রাজনীতি বাঁচবে: দুলু
গায়েবি হত্যা মামলা থেকে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিন: নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট
ঢাকাস্থ টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বাদশা, সম্পাদক আনিস 
