শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ৮ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » গ্রাহকরা সুদসহ আমানত ফিরে পাবেন, হেয়ার কাটও থাকবে না
প্রচ্ছদ » জাতীয় » গ্রাহকরা সুদসহ আমানত ফিরে পাবেন, হেয়ার কাটও থাকবে না
৫৩ বার পঠিত
বুধবার ● ৮ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

গ্রাহকরা সুদসহ আমানত ফিরে পাবেন, হেয়ার কাটও থাকবে না

সংসদে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাস

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক খাতে সংকটে পড়া আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সংসদে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানত সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের ‘হেয়ার কাট’ কার্যকর করা হবে না। তবে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু নোটিশে দেশের কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লাখো মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন বিশ্বাসের জায়গা থেকে। এই অর্থ কারও চিকিৎসার শেষ ভরসা, কারও সন্তানের শিক্ষার খরচ, কারও মেয়ের বিয়ের সঞ্চয় কিংবা অবসর জীবনের নিরাপত্তা।

রানু বলেন, ব্যাংকের অর্থ লুটের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক ডাকাতদের অপরাধের দায় আমানতকারীরা কেন বহন করবেন? ‘হেয়ার কাট’ নামের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অন্যায় চাপ তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের স্বার্থ বিবেচনায় ‘হেয়ার কাট’ ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকট একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। একটি নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে নীরব থাকতে পারে না। আর্থিক খাতকে পুনরুদ্ধারে সরকার একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে নতুন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। এসব ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন-২০২৬’-এর আওতায় প্রয়োজন হলে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পদ ও সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তা বিক্রি করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, “আমানতকারীদের টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে। ‘হেয়ার কাট’ থাকবে না।” তবে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার এমন একটি সমাধান চায়, যাতে গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয় এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও আস্থা ফিরে আসে।

 



বিষয়: #  #



আর্কাইভ