শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ৮ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা
৭ বার পঠিত
বুধবার ● ৮ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে আগামী ১০ বছরের জন্য প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের জান্তা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, পুঁজিবাজার ও প্রতিরক্ষা শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা

জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে তিন বছর মেয়াদি এবং পরবর্তী সাত বছর মেয়াদি—দুই ধাপে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, এই পরিকল্পনার আওতায় সেনাবাহিনীতে নতুন প্রজন্মের ট্যাংক, সাঁজোয়া যুদ্ধযান, আধুনিক আর্টিলারি, রকেট ব্যবস্থা, ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, কাউন্টার ইউএভি প্রযুক্তি এবং উন্নত নজরদারি সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জামের কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং দেশীয়ভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পনীতি প্রণয়ন, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বৃহত্তর বগুড়ায় ইউএভি (আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল) ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল ও সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমান বাহিনীতে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

রোহিঙ্গা সংকটকে জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সরকার সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকার, জাতিসংঘ, বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং মিয়ানমারের অবস্থানের ওপর প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতিও বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও কারসাজির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বাজার কারসাজি, আইপিও অনিয়ম, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও করপোরেট সুশাসনের ঘাটতির কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি জানান, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বাজার কারসাজির দায়ে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বাজার সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য

শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ প্রায় ২ শতাংশ হলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে, যাতে তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য পেশায় যেতে বাধ্য না হন।

নারী শিক্ষার প্রসারে অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্মার্ট কৃষি ও কাঁঠাল রপ্তানির উদ্যোগ

কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশের কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের কাঁঠালের চাহিদা তৈরি হলে তা থেকে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

এ ছাড়া বন্ধ থাকা কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, শিক্ষা, কৃষি, বিনিয়োগ ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সক্ষম, আত্মনির্ভর ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।



বিষয়: #



জাতীয় এর আরও খবর

গুরুত্বপূর্ণ ১৩৭ জনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ১৩৭ জনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে সরকার
সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন
জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীরা ছাড় পাবেন না জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীরা ছাড় পাবেন না
’ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিন’ ’ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিন’
গ্রাহকরা সুদসহ আমানত ফিরে পাবেন, হেয়ার কাটও থাকবে না গ্রাহকরা সুদসহ আমানত ফিরে পাবেন, হেয়ার কাটও থাকবে না
প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ালেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা: ডিসি ফরিদা প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ালেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা: ডিসি ফরিদা
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য-সহিংসতা প্রতিরোধে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি: ডেপুটি স্পিকার নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য-সহিংসতা প্রতিরোধে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে ইসি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে ইসি
জুনে সড়কে প্রাণ গেল ৪৩৮ জনের, সর্বাধিক ১১৬ প্রাণহানি ঢাকায় জুনে সড়কে প্রাণ গেল ৪৩৮ জনের, সর্বাধিক ১১৬ প্রাণহানি ঢাকায়

আর্কাইভ