বুধবার ● ৮ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ’ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিন’
’ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিন’
সংসদে এমপি রানুর দাবি
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। একই সঙ্গে আমানতকারীদের ওপর ‘হেয়ার কাট’ নীতির কোনো বোঝা চাপানো যাবে না বলেও দাবি জানান তিনি।
তার বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংকটে থাকা ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ তাদের অর্থ ফেরত পাবেন এবং কোনো ‘হেয়ার কাট’ কার্যকর করা হবে না। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে বিষয়টি তুলে ধরেন রেহানা আক্তার রানু।
নোটিশে তিনি বলেন, কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মালিকপক্ষের অর্থ পাচারের কারণে লাখো আমানতকারী তাদের কষ্টার্জিত অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। এসব অর্থ কোনো বিলাসিতার জন্য নয়; বরং মানুষের চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, মেয়ের বিয়ে কিংবা অবসর জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
রানু বলেন, ব্যাংক মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকের অর্থ লুট হলে মানুষের আস্থা নষ্ট হবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের সময় নিজেদের জমা অর্থ না পেয়ে চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজন মেটাতে পারছেন না, অথচ অভিযুক্ত ব্যাংক মালিকদের অনেকে বিদেশে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ‘হেয়ার কাট’ নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধ করেছে যারা, তাদের দায় সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনে সরকার ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন-২০২৬’-এর আওতায় কাজ করছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। অডিটের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, প্রয়োজনে আইনের আওতায় দায়ী ব্যক্তিদের সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তা বিক্রি করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতেও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমানতকারীদের টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে। ‘হেয়ার কাট’ থাকবে না।” তবে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান।
বিষয়: #’ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের





রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে বসছে দুটি সেনা ক্যাম্প
ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ আসছে ১২ অক্টোবর
জামিনের ১ মাস পর সাংবাদিক আজহার আলীর মৃত্যু
সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে আবারও আসছে গণভোট!
বিশ্বমানের ‘বসুন্ধরা সুপারগল্ফের’ যাত্রা শুরু 
