শিরোনাম:
ঢাকা, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
Swadeshvumi
রবিবার ● ৫ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » জুনে সড়কে প্রাণ গেল ৪৩৮ জনের, সর্বাধিক ১১৬ প্রাণহানি ঢাকায়
প্রচ্ছদ » জাতীয় » জুনে সড়কে প্রাণ গেল ৪৩৮ জনের, সর্বাধিক ১১৬ প্রাণহানি ঢাকায়
১ বার পঠিত
রবিবার ● ৫ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

জুনে সড়কে প্রাণ গেল ৪৩৮ জনের, সর্বাধিক ১১৬ প্রাণহানি ঢাকায়

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত জুন মাসে দেশের সড়কে ৪৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ৪৪ জন নারী ও ৫৬ জন শিশু রয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কেই বেড়েছে দুর্ঘটনা।

রবিবার (৫ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংগঠনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৮ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।

পুরো মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানিই ছিল সবচেয়ে বেশি। ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া ৯১ জন পথচারী এবং ৫৭ জন চালক ও চালকের সহকারী নিহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক হিসাবে মোটরসাইকেলের পর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে থ্রি-হুইলারের যাত্রীদের মধ্যে। ইজিবাইক, সিএনজি ও অটোরিকশাসহ থ্রি-হুইলারে ১১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাসে ২৭ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলিতে ৩৭ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সে ১৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনে ১৫ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেলে ৮ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের পেশাভিত্তিক পরিচয়ে দেখা গেছে, একজন পুলিশ সদস্য, চারজন শিক্ষক, দুইজন সাংবাদিক, একজন চিকিৎসক, তিনজন প্রকৌশলী, চারজন আইনজীবী, একজন চীনা নাগরিক, ১৩ জন ব্যাংক ও বিমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৭ জন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী, ২১ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৪ জন ব্যবসায়ী, ১৯ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, চারজন মসজিদের ইমাম বা খাদেম, ছয়জন পোশাকশ্রমিক, পাঁচজন নির্মাণশ্রমিক, দুইজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৭টি শহরের সড়কে এবং ৬টি অন্যান্য স্থানে। অর্থাৎ, মোট দুর্ঘটনার অর্ধেকেরও বেশি ঘটেছে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে ২০৬টি ঘটনায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন, ১০৯টি ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ৫৩টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৭টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সময়ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৩১ দশমিক ৩৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও বেতনব্যবস্থার অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংগঠনটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সব মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি এবং সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহনকে সমন্বিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, জুন মাসে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২১টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।



বিষয়: #  #



আর্কাইভ