শুক্রবার ● ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » সংসদ যেন ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়: ড. শফিকুর রহমান
সংসদ যেন ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়: ড. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধীদলীয় নেতা ও ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদ যেন কোনো ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। অতীতে সংসদে জনস্বার্থের আলোচনা অপেক্ষা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্র হননের ঘটনাই বেশি ঘটেছে বলে মন্তব্য করে তিনি আশা প্রকাশ করেন— নতুন এই সংসদ হবে জনগণের কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মঞ্চ।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সংসদ কোনো গতানুগতিক সংসদ নয়; এটি দাঁড়িয়ে আছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও বিপ্লবের রক্তের ওপর। তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে যারা নির্যাতিত হয়েছেন এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ এই সংসদে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে নিজের নির্বাচনি এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৭৫ ও ১৯৯০ সালের বিভিন্ন গণআন্দোলনের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ করে গত সাড়ে ১৫ বছরে যারা গুম, নির্যাতন ও অবিচারের শিকার হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শহীদদের জন্য তিনি জান্নাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরে খুব অল্প সময়ের জন্য সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর ছিল। অধিকাংশ সময়ই দেশ ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে ছিল এবং সংসদ ছিল কার্যত একটি ‘ডামি’ বা অকার্যকর প্রতিষ্ঠান। অতীতে যারা স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন, তারা অনেক ক্ষেত্রেই গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান স্পিকার দলীয় পদ ত্যাগ করে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তার কাছ থেকে নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশা করছেন বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, স্পিকারের কাছে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় ন্যায়বিচার ও ইনসাফ নিশ্চিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংসদের পরিবেশ প্রসঙ্গে ড. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের কল্যাণ, রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণমূলক আলোচনাই হওয়া উচিত সংসদের প্রধান কাজ। কিন্তু অতীতে বহু সময় দেখা গেছে, সংসদে নীতিগত আলোচনার চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমানের ঘটনাই বেশি ঘটেছে। তাই তিনি স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান, সংসদ যেন কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চরিত্র হননের মঞ্চে পরিণত না হয়।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের স্লোগান ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে সংসদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সঠিকভাবে চললে নির্বাহী ও বিচার বিভাগও সঠিকভাবে কাজ করবে। সংসদের মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের নানা অসংগতি ও দুর্নীতি দূর হবে—এটাই দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা।
সবশেষে তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান এবং সংসদের সকল গঠনমূলক কার্যক্রমে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন।





হামের উপসর্গে একদিনে ১১ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ২শ’
’মত প্রকাশের কারণে ধরে আনা হচ্ছে, মত-দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই’
’বাকস্বাধীনতা মানে কারো পরিবার নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা নয়’
পদ্মা সেতুসহ ৩ মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্ত চলছে: সংসদে সেতুমন্ত্রী
বজ্রাঘাতে একদিনে ১৪ জনের মৃত্যু, ৭ জেলায় শোকের ছায়া
মাধবী মারমার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল
জ্বালানি সংকট সমাধানে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন, মেয়াদ ৩০ দিন
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পাঠ্যপুস্তকে এনআইডির গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত করতে এনসিটিবিকে ইসির চিঠি 
