শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Swadeshvumi
বৃহস্পতিবার ● ১২ মার্চ ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু
২০ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১২ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু

---

 

শায়লা শবনম

 

প্রায় দেড় বছর পর আবার সচল হতে যাচ্ছে দেশের আইনসভা। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল এবং জাতীয় নির্বাচনের পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনে সকাল ১১টায় শুরু হবে নতুন সংসদের কার্যক্রম।

সংবিধান অনুযায়ী অধিবেশনের শুরুতেই ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই ভাষণের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব এনে তা নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।

রাষ্ট্রপতি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

 

৫৮৩ দিন পর নতুন সংসদ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিলুপ্ত হওয়ার পর প্রায় ৫৮৩ দিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল দেশের আইনসভা। সেই হিসেবে প্রায় এক বছর সাত মাস পর আবার শুরু হচ্ছে সংসদের কার্যক্রম। এই দীর্ঘ সময় দেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে এবং নানা প্রশাসনিক ও আইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে নতুন সংসদের সামনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনগত প্রশ্ন।

 

ভোটের ফল ও সংসদের গঠন

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি একাই ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। জোটসহ তাদের মোট আসন সংখ্যা ২১২।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন ৭৬। ফলে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নিচ্ছে দলটি।

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি ছোট দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরাও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে।

ত্রয়োদশ সংসদে সরকারদলীয় সংসদ নেতা হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

নতুন মুখের সংসদ

এবারের সংসদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো নতুন সদস্যের আধিক্য। প্রায় ৭৬ শতাংশ সংসদ সদস্যই প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, এটি অনেকটাই নতুন মুখের সংসদ।

 

---

 

স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখেই শুরু

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশন শুরু হবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর সংসদ নেতা তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেবেন। তার আহ্বানে একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য অস্থায়ীভাবে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

বিদায়ী সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় কেউই অধিবেশন পরিচালনা করতে পারছেন না। ফলে স্পিকারের শূন্য আসন রেখেই শুরু হচ্ছে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন—যা সংসদীয় ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। অস্থায়ী সভাপতির সভাপতিত্বেই প্রথমে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর একইভাবে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।

স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হবে এবং এই সময় রাষ্ট্রপতি সংসদ ভবনেই নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে আবার অধিবেশন শুরু হবে।

 

প্রথম দিনের কার্যক্রম

প্রথম বৈঠকেই পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করা হবে। একই সঙ্গে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রধান থাকবেন নতুন স্পিকার।

এছাড়া প্রয়াত সংসদ সদস্যদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হবে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

 

বড় চ্যালেঞ্জ: ১৩৩ অধ্যাদেশ

ত্রয়োদশ সংসদের সামনে সবচেয়ে বড় আইনগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশকে। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের প্রায় ১৮ মাসের মেয়াদে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব অধ্যাদেশকে বিল আকারে সংসদে পাস করে আইনে রূপান্তর করতে হবে। তা না হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘সংসদ বসার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। বাস্তবতায় এতগুলো অধ্যাদেশ অল্প সময়ে পাস করা কঠিন, তাই অনেকগুলো হয়তো সংসদে টিকবে না।’

 

সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদ সচিবালয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সংসদ সদস্যদের আসনবিন্যাস, কার্যসূচি ও নথিপত্র প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে অধিবেশন ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। জননিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী সরকার ও সক্রিয় বিরোধী দল থাকলে সংসদে আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে নতুন গতি আসতে পারে।

 



বিষয়: #



আর্কাইভ