মঙ্গলবার ● ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » বিচারিক ক্ষমতা পেল নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি
বিচারিক ক্ষমতা পেল নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচনি অপরাধ তদন্তের পাশাপাশি এবার বিচারকার্য সম্পাদন করার ক্ষমতা পাচ্ছে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি। অর্থাৎ, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব এবার কমিটিরই থাকবে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে এই বিধান যোগ করা হয়েছে। নির্বাচনের ৩০০ আসনের জন্য ৩০০টি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা।
কমিটির বিচারিক ক্ষমতার বিস্তার
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রথমবার ৩০০ আসনের জন্য ৩০০টি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে, মন্ত্রী, এমপি, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীকে তদন্ত এবং শোকজ করার ক্ষমতা কমিটির কাছে ছিল।
তৎকালীন আরপিও অনুযায়ী, নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম হলে কমিটি প্রতিবেদন জেলা নির্বাচন অফিসারের মাধ্যমে কমিশন সচিবকে পাঠাত। এরপর কমিশন সিদ্ধান্ত নিত। এবার কমিটিই সরাসরি বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে, যা প্রক্রিয়াকে দ্রুত এবং কার্যকর করবে।
আরপিও ৯১(এ) সংশোধনে বলা হয়েছে, কমিটি ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। তারা নির্দিষ্ট অপরাধ আমলে নিতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে মামলা উপযুক্ত আদালতে পাঠাতে পারবে।
কমিটির গঠন ও সহায়তা
প্রতিটি জেলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সিনিয়র সহকারী জজদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। নির্বাচনের পূর্ববর্তী উদাহরণে, কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি আকম বাহাউদ্দিন বাহারকে এক লাখ এবং বরগুনা-১ আসনের ধীরেন্দ্রনাথ শম্ভুকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
তদন্তে সহায়তার জন্য পুলিশ সুপার/পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবেন। ব্যর্থ হলে তা অদক্ষতা বা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারও কমিটিকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবেন।
তফসিল ও ভোটের সময়সূচি
নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির কার্যক্রম চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামীকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা অথবা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণা করা হবে। কমিশন জানিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সপ্তাহের যেকোনো দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সিদ্ধান্তের বিশ্লেষণ
১. নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি:
বিচারিক ক্ষমতা প্রাপ্ত অনুসন্ধান কমিটি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আইনি ন্যায়িকতা আরও শক্তিশালী হবে।
২. নিয়ম ভঙ্গের শাস্তি:
পূর্বে শুধু প্রতিবেদন প্রেরণ করত কমিটি, এবার তারা সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে। এতে প্রার্থীদের আইন অমান্য করার ক্ষেত্রে সতর্কতা বৃদ্ধি পাবে।
৩. প্রশাসনিক সমন্বয়:
পুলিশ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক সহযোগিতা কমিটির কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
৪. ভোটের প্রস্তুতি:
কমিটির দ্রুত ও সুষ্ঠু কার্যক্রম তফসিল ঘোষণার পর ভোটার ও প্রার্থীদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
বিষয়: ## ইসি # বিচারিক ক্ষমতা # নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি





রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি: ইসি সচিব
ইসিতে দুই প্রার্থীর ৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে: ইসি সচিব
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে চায় জামায়াত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য এমপিদের তালিকা তলব
ইসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত, শিগগিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তারিখ চূড়ান্ত হবে: সিইসি
তফসিল ঘোষণা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক কাল
ইসির নতুন জনসংযোগ পরিচালক মমিন সরকার
আগামী বছরের শুরুতে ইউপি নির্বাচন: ফখরুল
আইনি বাধা পেরিয়ে এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর 
