মঙ্গলবার ● ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » জাতীয় » বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ, কাফির’ বলায় দেশজুড়ে তোলপাড়
বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ, কাফির’ বলায় দেশজুড়ে তোলপাড়
বিশেষ প্রতিনিধি
নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেনকে ‘মুরতাদ, কাফির’ হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মাহমুদুল হাসান মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আজ মুরতাদ কাফির বেগম রোকেয়ার জন্মদিন।”
পোস্টটি ভাইরাল হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করে এবং পরে মেইনস্ট্রিম সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম আতিক পোস্টটি নিয়ে বলেন, “৫ আগস্ট আমাদের বাকস্বাধীনতা দিয়েছে। যার সুবাদে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকও এখন ফতোয়া দিতে পারেন।”
রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা বলেন, “সবারই নিজস্ব দর্শন থাকে, আর তার মাপকাঠিও আলাদা। তবে এ ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্যে না করাই উত্তম।”
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা মন্তব্য করেছেন, “বেগম রোকেয়া পুরো উপমহাদেশে নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃত। তাকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা মানে গোটা নারী সমাজকেই হেয় করা। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
পোস্ট দেওয়ার পর শিক্ষক মন্তব্য
সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “যে পোস্টের ক্যাপশনে আমি এটি লিখেছি, সেই পোস্টেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে। বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে চাইলে কোনো ভালো আলেমের কাছে জানতে পারেন।”
তথ্যটি থেকে বোঝা যায়, শিক্ষক পোস্টের মাধ্যমে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, তবে এটি প্রকাশের প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাষার সমালোচনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে হয়েছে।
ঘটনার বিশ্লেষণ
নারী জাগরণের প্রতীক বেগম রোকেয়াকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে নানা মহলে সমালোচনার ঝড়।
১. সামাজিক প্রেক্ষাপট:
বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখেছেন এবং সমগ্র উপমহাদেশে নারী জাগরণের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। তার প্রতি এমন ধরণের সমালোচনামূলক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসা সামাজিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার আলোকে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
২. বাকস্বাধীনতা বনাম সামাজিক দায়বদ্ধতা:
শিক্ষক ও নাগরিকরা বাকস্বাধীনতা আছে, তবে এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। পোস্টটি প্রমাণ করে, স্বাধীনতা থাকলেও সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং সমালোচনা অনিবার্য।
৩. নারী ও সমাজ প্রতিফলন:
শিক্ষক যে ব্যক্তিত্বকে আক্রমণ করেছেন, তিনি নারী অধিকার ও শিক্ষার অগ্রদূত। তাই মন্তব্যটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং নারী সমাজের প্রতি একটি সাংকেতিক আঘাত হিসাবেও ধরা হচ্ছে।
৪. মিডিয়ার প্রভাব:
সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি ভাইরাল হওয়া এবং সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশিত হওয়া থেকে বোঝা যায়, আজকের প্রেক্ষাপটে যে কোনো মন্তব্য দ্রুত সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
বেগম রোকেয়া নিয়ে ফেসবুক পোস্টের বিতর্ক সামাজিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার প্রমাণ। এটি দেখাচ্ছে যে, বাংলাদেশের নাগরিক ও শিক্ষাবিদরা তাদের মত প্রকাশে স্বাধীন হলেও তা দায়িত্বশীল হওয়া আবশ্যক। নারী জাগরণের পথিকৃৎকে নিয়ে প্রকাশিত মন্তব্যে সমালোচনা, নাগরিক প্রতিক্রিয়া এবং মিডিয়ার ভূমিকা এই ঘটনায় সমানভাবে প্রভাব ফেলেছে।
বিষয়: ## বেগম রোকেয়া # মুরতাদ # কাফির # দেশজুড়ে তোলপাড়





ভয়কে পেছনে রেখে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান : প্রধান উপদেষ্টা
অমর একুশে বইমেলার স্টল ভাড়ার ৫৫% মওকুফের সিদ্ধান্ত
বিকাশ-নগদ-রকেটে এক হাজারের বেশি লেনদেন করা যাবে না
২০ ফেব্রুয়ারি নয়, ঈদের পরেই হোক ‘প্রাণবন্ত’ বইমেলা
স্বামী সন্তানসহ জাবি যত’র সাবেক উপাচার্য ফারজানার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন
যমুনার সামনে ৩ জন নিহতের খবর সত্য নয়: প্রেস উইং
পুলিশের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের সংঘর্ষ, যমুনায় ডিএমপি কমিশনার
পদোন্নতির দাবি রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের কর্মকর্তাদের
২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা 
