রবিবার ● ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » রংপুরে জিএম কাদেরের নির্বাচনি সভায় হামলা, মত প্রকাশের সময় শিক্ষার্থী ভোটার লাঞ্ছিত
রংপুরে জিএম কাদেরের নির্বাচনি সভায় হামলা, মত প্রকাশের সময় শিক্ষার্থী ভোটার লাঞ্ছিত
![]()
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর মহানগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বীরভদ্র বালাটারী এলাকায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নির্বাচনি মতবিনিময় সভায় প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে। সভায় মত প্রকাশের সময় এক শিক্ষার্থী ভোটারকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত ওই সভায় উপস্থিত ভোটারদের কাছ থেকে মতামত জানতে চাওয়া হয়। এ সময় এক শিক্ষার্থী তার এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা বলতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, বক্তব্য চলাকালেই জাতীয় পার্টির সমর্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী হঠাৎ তাকে ঘিরে ধরে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং সভা শেষে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সভাস্থলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সাধারণ ভোটার সভাস্থল ত্যাগ করেন। উপস্থিত লোকজনের একটি অংশ এ ঘটনাকে “মত প্রকাশের অধিকার দমনের প্রকাশ্য নজির” বলে আখ্যা দেন। তাঁদের মতে, ভোটারদের কথা শোনার নামে আয়োজন করা সভায় একজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন তুলতেই তার ওপর হামলার ঘটনা গণতন্ত্রের মৌলিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভোটাররা
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রংপুর দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একাধিকবার এখান থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য ও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তবে বাস্তব চিত্র নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। উন্নয়ন প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, বরং বেড়েছে বেকারত্ব, জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ও নাগরিক সেবার সংকট— এমন অভিযোগ করেন তারা।
সাতমাথা এলাকার এক ভোটার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘ভোট চাইতে এসে যদি মানুষের কথা বলার অধিকারই কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে ক্ষমতায় গেলে কী হবে— তা সহজেই বোঝা যায়। আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু তার আগে চাই কথা বলার নিরাপত্তা।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। নির্বাচনের আগে যখন বিভিন্ন দল গণসংযোগ ও মতবিনিময়ের কথা বলছে, তখন ভিন্নমত দমন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ভোটারদের আস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে।
এ ঘটনায় জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গণতন্ত্রে মত প্রকাশের অধিকার যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন এই ঘটনাটি রংপুরবাসীর সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে— ভোট কি আদৌ পরিবর্তন ও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিচ্ছে, নাকি কেবল ক্ষমতার পুনরাবৃত্তিকেই টিকিয়ে রাখছে? আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন রংপুরের অনেক ভোটার।
বিষয়: #মত প্রকাশের সময় শিক্ষার্থী ভোটার লাঞ্ছিত #রংপুরে জিএম কাদেরের নির্বাচনি সভায় হামলা





নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি দলের আচরণবিধি থাকা উচিত: জাইমা রহমান
১২ ফেব্রুয়ারি যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ
ইসির পিআর শাখার তালিকায় এখনো পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘পাশা’র নাম
জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল দাবি করেছেন নারী নেত্রীরা
বিদেশিদের কাছে বুধবার ভোটের প্রস্তুতি তুলে ধরবে ইসি
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন
“জামায়াতের ভোটের শুরুটাই অনৈতিক”
ক্ষমতায় গেলে যে ২৬ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে জামায়াত 
