শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সংসদে আইন প্রণয়ন ও স্থায়ী কমিটি গঠনে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, উদ্বেগ টিআইবির
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সংসদে আইন প্রণয়ন ও স্থায়ী কমিটি গঠনে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, উদ্বেগ টিআইবির
১ বার পঠিত
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সংসদে আইন প্রণয়ন ও স্থায়ী কমিটি গঠনে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, উদ্বেগ টিআইবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধি, সংসদীয় রেওয়াজ ও জবাবদিহিতার নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র ব্যবহার করে একের পর এক বিল পাস এবং কমিটি গঠন করেছে, যা সংসদের কার্যকারিতা ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ অনুযায়ী সংসদে উত্থাপিত কোনো বিল স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো, বাছাই কমিটিতে পাঠানো বা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ পাসের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার কোনোটিই অনুসরণ করা হয়নি। বিরোধী দলের জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো কিংবা সংশোধনী প্রস্তাবের সুযোগও দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের হাতে বিলের অনুলিপি দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিলটি সদস্যদের কাছে দেওয়া হয়েছে উত্থাপনের ঠিক আগমুহূর্তে। ফলে তারা বিলটি যথাযথভাবে পর্যালোচনার সুযোগ পাননি। টিআইবির মতে, কার্যপ্রণালি বিধি উপেক্ষা করে একতরফাভাবে আইনটি পাস করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে আরও কয়েকটি বিল দ্রুত পাস করায় প্রশ্ন উঠেছে, কর্তৃত্ববাদী আমলের সংসদের সঙ্গে বর্তমান সংসদের পার্থক্য কোথায়।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে, যা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের পক্ষে অন্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নব্বই-পরবর্তী কোনো সংসদে এমন নজিরও নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

টিআইবির মতে, স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের সংসদীয় কমিটির সদস্য বা সভাপতি করা হলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব কমিটির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ টেনে সংস্থাটি জানায়, সরকারি হিসাব কমিটি, বিশেষ অধিকার কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রায় ২৬ শতাংশ স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বণ্টনের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলেছে, ইতোমধ্যে গঠিত বিতর্কিত সংসদীয় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ঘোষিত রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সংসদীয় রেওয়াজ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত একটি নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।



বিষয়: #  #



আর্কাইভ