শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » এক সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্ট: ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ’ গুঞ্জন
প্রচ্ছদ » জাতীয় » এক সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্ট: ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ’ গুঞ্জন
২ বার পঠিত
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

এক সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্ট: ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ’ গুঞ্জন

---


# বঙ্গভবন-সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই, প্রেস সচিব বললেন—‘আপনার মতো আমিও দেখছি’


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

জুলকারনাইন সায়ের বুধবার ফেসবুকে দাবি করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। একই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম আলোচনায় রয়েছে।

তবে এই দাবির বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং বিএনপির এক শীর্ষ নেতা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আরেক মন্ত্রীকে এসএমএসে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “ধুর।”

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলমের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি এসএমএসে জবাব দেন, “আপনার মতো আমিও (খবরটা) দেখছি।” অর্থাৎ বঙ্গভবনের পক্ষ থেকেও গুঞ্জনের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রায়ই শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “রাষ্ট্রপতি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রায়ই বলেন, ‘শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারি।’”

সম্প্রতি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন
গুঞ্জনের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। এর আগে ১৫ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বাণী দেন। জুন মাসে ভারতের নতুন হাইকমিশনার ও মরক্কোর নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।

স্বাস্থ্যগত কারণেই কি আলোচনা?
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত মে মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য সফর করেন। ১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে স্টেন্ট বসানো হয়। নয় দিন পর দেশে ফেরার সময় বঙ্গভবন জানিয়েছিল, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নথিতে ডিজিটালি অনুমোদন দেন।

পদত্যাগের ইচ্ছার কথা আগেও বলেছিলেন
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছাড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

পরে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “নতুন সরকার অনুরোধ করলে আমি চলে যেতে চাই।” কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন—এমন প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, “আমার ভালো লাগে না।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিজেকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় তিনি অপমানবোধ করেছিলেন বলেও পরে উল্লেখ করেন।

তবে গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পরও তিনি পদত্যাগ করেননি। বরং তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন।

পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে কোনো ব্যক্তির নাম আলোচনায় থাকলেই তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন না; তাকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হতে হবে।

বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্তই কার্যত নির্ধারক হবে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং একই বছরের ২৪ এপ্রিল শপথ নেন। তিনি পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে।

 

 



বিষয়: #



আর্কাইভ