বৃহস্পতিবার ● ২৫ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » জুলাই চেতনা বিক্রি ও ঋণ খেলাপিদের সংসদে তীব্র সমালোচনা
জুলাই চেতনা বিক্রি ও ঋণ খেলাপিদের সংসদে তীব্র সমালোচনা
বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিন
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের চেতনা, নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সততা এবং জনআস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে গতকাল তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়েছে।আলোচনায় একদিকে যেমন জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কটাক্ষ ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ উঠে আসে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির দুরবস্থা, ব্যাংকিং খাতের সংকট এবং ঋণনির্ভর বাজেট নিয়েও কঠোর সমালোচনা করা হয়।
গতকাল ব্রহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।
‘জুলাই চেতনা বিক্রি’ নিয়ে সংসদে উত্তাপ
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ব্যবহার করে কেউ কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “আমরা জুলাইকে বিক্রি করি না, ধারণ করি। কিন্তু অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করেন। আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন। আগে কোথায় ছিলেন, এখন কোথায় আছেন—সেটা জাতির সামনে তুলে ধরলে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।”
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার চেতনাকে জুলাইয়ের মাধ্যমে মুছে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। স্বাধীনতা ও জুলাই— দুই চেতনাকেই সমানভাবে ধারণ করতে হবে।
বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা বাজেট’ বলে বিরোধী মহলের সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। আক্তারুজ্জামান বলেন, “চানাচুর শুধু বাচ্চারা নয়, বড়রাও খায়। অন্য কিছু খাওয়ার পরও চানাচুর খাওয়া হয়। তাই এ ধরনের মন্তব্যের পেছনে অন্য কোনো হতাশা আছে কিনা, সেটাই প্রশ্ন।”
হাসনাতের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের জবাবে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দিতে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না এনে তদন্ত করা হোক। সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশসহ সব গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানো হোক। যদি এক টাকারও দুর্নীতি বা কোনো ধরনের অসদুপায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, আমি সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেব।”
হাসনাত দাবি করেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, বরং সরকারের সমালোচনা করার কারণে যেন তার এলাকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হন—সে উদ্বেগের কথা বলেছিলেন।
‘গরিব হয়রানির বাজেট’
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী প্রস্তাবিত বাজেটকে “গরিব হয়রানির বাজেট” বলে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, “এটি শুধু গরিব মারার বাজেট নয়, গরিবকে হয়রানির বাজেট।” নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে জনগণ স্বস্তির বাজেট আশা করেছিল, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘আওয়ামী লীগের ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ’
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড দেশের তিন প্রজন্মের শিক্ষার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, “নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা আন্দোলন এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তিনটি প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এই তিন প্রজন্ম জীবিত থাকা অবস্থায় আগামী ৫০ বছরেও আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।”
বাজেট অধিবেশনের এ দিনের আলোচনা দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, রাজনৈতিক জবাবদিহি, জুলাই আন্দোলনের উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান বাজেট বিতর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ব্যাংকিং খাত ‘সম্পূর্ণ বেহাল’
বাজেট আলোচনায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সাবেক কর্মকর্তা ড. রেজা কিবরিয়া।
তিনি বলেন, “আমি ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। কোনো দেশে খেলাপি ঋণের হার ৬ শতাংশ পার হলেই অর্থনীতিবিদরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তেন। বাংলাদেশে সেই হার ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি ব্যাংকিং খাতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।”
রেজা কিবরিয়া বলেন, বর্তমানে সৎ ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছেন না। ব্যাংকগুলো জনগণের কাছ থেকে কম সুদে আমানত গ্রহণ করলেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ সুদ নিচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আগে ৯০ দিন সুদ পরিশোধ না করলে খেলাপি ধরা হলেও এখন এক বছর পর্যন্ত সুদ না দিলেও অনেক ক্ষেত্রে খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয় না।
আয়ের বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ধনী ব্যক্তিকে অতিরিক্ত অর্থ দিলে তা অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলে না। কিন্তু গরিব মানুষের হাতে অর্থ গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে খরচ হয় এবং অর্থনীতিতে গতি সৃষ্টি করে।
চার মাসে ঋণ বেড়েছে এক লাখ কোটি টাকা
এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যে দেশের মোট ঋণ আরও এক লাখ কোটি টাকা বেড়েছে।
তার ভাষায়, “সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় মোট ঋণ ছিল প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। এখন তা ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ চার মাসেই দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে আবদ্ধ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সংস্কারের অভাবে দেশের অর্থনীতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক খাতে সংস্কারের কথা বললেও সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের কিছু ধারার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যেসব মালিক ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করেছে, তাদের কাছেই আবার মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
# সংসদ/শায়লা
বিষয়: #জুলাই চেতনা বিক্রি ও ঋণ খেলাপিদের সংসদে তীব্র সমালোচনা





হাওড়াঞ্চলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করুন
আজ মাঠে নামবে ব্রাজিল–স্কটল্যান্ড
ওই দলটি তো পালাতে পেরেছে, বিএনপি-জামাতের কিন্তু যাওয়ার জায়গা নেই: এমপি ইজ্জত উল্লাহ
গুজবকারীরাও আসছে সাইবার আইনের আওতায়: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
১৭ বছর পর কার্যকর সংসদ পেয়েছে দেশ: স্পিকার
অনলাইন জুয়া ফৌজদারি অপরাধ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন, শুরু ১ জুলাই
দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় দেশে ইলেকট্রনিক শিল্প স্থাপন করা হবে
কুরআনের আয়াত নিয়ে ‘ঠাট্টা-বিদ্রুপের’ অভিযোগে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধীদল 
