মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » আইন-আদালত » জুলাই সনদকে ধারণ করেই সাংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি হবে: আইনমন্ত্রী
জুলাই সনদকে ধারণ করেই সাংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি হবে: আইনমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক
![]()
# পুরো সংবিধান পর্যালোচনা, সব পক্ষের মতামত নেবে বিশেষ কমিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি করে সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার আগে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, সাংবাদিক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ ২০২৫-এর মূল চেতনা ধারণ করেই সাংবিধানিক সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করা হবে। তবে সনদের ভাষা হুবহু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না; বরং এর প্রস্তাবগুলোকে সাংবিধানিক ও আইনি পরিভাষায় রূপ দিয়ে সংশোধনী খসড়া প্রণয়ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের একটি ধারা সংশোধনের ফলে অন্য ধারার সঙ্গে যেন কোনো অসামঞ্জস্য সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ‘হারমোনিয়াস ইন্টারপ্রিটেশন’ ও ‘বেসিক স্ট্রাকচার থিওরি’সহ সাংবিধানিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। আবেগ নয়, আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তিতেই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, জুলাই সনদ প্রণয়নে যারা কাজ করেছেন, তাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত গ্রহণ করে সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।
কমিটির গঠন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, শুরুতে ১৭ সদস্যের কমিটি করার পরিকল্পনা ছিল এবং বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি সদস্যপদ সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। তারা এখনো সদস্যদের নাম না দিলেও কমিটির দরজা খোলা রয়েছে। বিরোধী দল যেকোনো সময় সদস্য মনোনয়ন দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, বিরোধী দল কমিটিতে যোগ না দিলেও জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ৩৩টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য, সুপারিশ এবং ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। কমিটির কাজ নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা ও পরামর্শ গ্রহণেও সরকার উন্মুক্ত থাকবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন কোনো স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর শতাধিকবার সংশোধিত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেও একাধিক সংশোধনী আনা হয়েছে। ফলে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।
দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বিষয়ও জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত। তবে যেসব বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত রয়েছে এবং তা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে, সেসব অবস্থানও জুলাই সনদের নির্দেশনা অনুযায়ী বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদীন, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিব রহমান, মো. নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়: #জুলাই সনদকে ধারণ করেই সাংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি হ





‘ছাগলকাণ্ডে’র মতিউরের বিচার শুরু
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশ
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আদালতে
সালমান এফ রহমানের জামিন
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা আটক
হামে মৃত্যুর বিষয়ে ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
সরকারি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা কাটল
জুলাই গণহত্যা মামলায় কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শুরু আজ
বিসিবি নির্বাচনে বাধা নেই 
