শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
Swadeshvumi
শনিবার ● ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » গণমাধ্যম » প্রয়াত আমীরুল মোমেনীন: দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব
প্রচ্ছদ » গণমাধ্যম » প্রয়াত আমীরুল মোমেনীন: দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব
১০৯ বার পঠিত
শনিবার ● ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

প্রয়াত আমীরুল মোমেনীন: দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব

---

আতাউর রহমান

সময়টা ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩টা। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে যেন থমকে গেল বাংলাদেশের সাংবাদিকতার একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর গ্রিন রোডের নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় মানুষ, প্রবীণ সাংবাদিক আমীরুল মোমেনীন ভাই।

সুদূর প্রবাসে, কর্মজীবন থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেও তাঁর মৃত্যুসংবাদ শোনার পর চার দশকেরও বেশি সময়ের স্মৃতিগুলো একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। সিডনিতে বসে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আজ লিখতে বসেছি তাঁর বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবন, অসামান্য অবদান এবং তাঁর সঙ্গে গড়ে ওঠা আত্মিক, গভীর ও নিবিড় সম্পর্কের কথা।

আমীরুল মোমেনীন ভাইয়ের কর্মজীবন ছিল দীর্ঘ, সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। দৈনিক খবর-এ কাজের মধ্য দিয়ে শুরু করে তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান বার্তা সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আমাদের অনেকেরই অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

বাসসে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর সবচেয়ে বড় গুণগুলোর একটি ছিল জুনিয়র সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা ও অভিভাবকসুলভ আচরণ। সংবাদকক্ষে কোনো জুনিয়রের কাজে ভুলত্রুটি হলে তিনি রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ না করে স্নেহের সঙ্গে তা সংশোধন করে দিতেন। প্রয়োজনে নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংবাদ প্রচারের ব্যবস্থা করতেন। তাঁর এই মানবিক আচরণ তরুণ সাংবাদিকদের আত্মবিশ্বাস বাড়াত এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পথকে সহজ করে দিত।

আমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সখ্য আরও গভীর হয় কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিভিত্তিক তৎকালীন জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক কিষাণ-এ কাজ করার সুবাদে। তৃণমূলের মানুষের প্রতি তাঁর যে গভীর দরদ ও দায়বদ্ধতা দেখেছি, তা সত্যিই বিরল। সাধারণ মানুষের জীবন, কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির নানা বিষয় নিয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল আন্তরিক।

আজ প্রবাসে বসে জাতীয় প্রেসক্লাবের সেই দিনগুলোর কথাও খুব মনে পড়ছে। দিনের পর দিন আমরা একসঙ্গে প্রেসক্লাবের মসজিদে নামাজ আদায় করেছি। নামাজ শেষে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা হতো। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদে থেকেও তাঁর মধ্যে কখনো অহংকার দেখিনি। বরং তরুণ সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্নেহশীল মনোভাব।

তরুণদের মেন্টর হিসেবে সংবাদকক্ষে নৈতিকতা, পেশাগত শৃঙ্খলা এবং নির্ভুল তথ্য পরিবেশনের ওপর তিনি যে গুরুত্ব দিতেন, তা আজও আমার কাছে অনুসরণীয় হয়ে আছে।

আমাদের সাংবাদিকতা জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় ছিল গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সেই নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে মাঠে ছিলেন আমীরুল মোমেনীন ভাই, আমি এবং আমাদের আরেক প্রিয় ব্যক্তিত্ব—বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাসসের সাবেক প্রধান আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সংবেদনশীল সংবাদগুলো বাসসের মাধ্যমে সারাদেশে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া ছিল নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ।

সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মোমেনীন ভাইয়ের ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত, পেশাদারিত্ব এবং মাঠপর্যায়ের কাজের দক্ষ তদারকি আমাদের দায়িত্ব পালনে অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কাজের ফাঁকে ফাঁকে আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা আর সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর প্রাণবন্ত সময় কাটানোর সেই দিনগুলো আজ কেবলই স্মৃতি।

পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও সহকর্মী ও সামাজিক মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। সহকর্মীদের যেকোনো আপদ-বিপদে পাশে দাঁড়ানো, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখা এবং সামাজিক কল্যাণে নীরবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি অনেকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

মানুষ মাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। দীর্ঘ কর্মজীবন ও জীবনপথে অজান্তে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকতেই পারে। তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে সবার কাছে আমার আন্তরিক অনুরোধ—আমীরুল মোমেনীন ভাই যদি কখনো কাউকে কোনোভাবে কষ্ট দিয়ে থাকেন কিংবা কোনো ভুল করে থাকেন, দয়া করে তাঁকে মন থেকে ক্ষমা করে দেবেন।

মোমেনীন ভাই আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন, পেশাগত সততা, মানবিকতা এবং সহকর্মীদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ আমাদের মাঝে স্মৃতি ও অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবে।

সবার কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাই। মহান আল্লাহ যেন এই সাদা মনের মানুষটিকে ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন।

বিদায়, মোমেনীন ভাই।
আপনি আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন আজীবন।



বিষয়: #



গণমাধ্যম এর আরও খবর

ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের
‘আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। ক্ষতি আপনারই হবে’: মতিউর রহমান চৌধুরী ‘আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। ক্ষতি আপনারই হবে’: মতিউর রহমান চৌধুরী
জামিনের ১ মাস পর সাংবাদিক আজহার আলীর মৃত্যু জামিনের ১ মাস পর সাংবাদিক আজহার আলীর মৃত্যু
আরএফইডির সহসভাপতি কাজী ফরিদকে হুমকি আরএফইডির সহসভাপতি কাজী ফরিদকে হুমকি
সাংবাদিকতায় নারীদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ কর্মদক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে: নাসিমুন আরা হক মিনু সাংবাদিকতায় নারীদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ কর্মদক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে: নাসিমুন আরা হক মিনু
সাংবাদিক-শিল্পীদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ সাংবাদিক-শিল্পীদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ
সাংবাদিক ফরিদা আখতার খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ সাংবাদিক ফরিদা আখতার খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আবুল হাসনাত : প্রতিষ্ঠান ছিল যার সাধনা আবুল হাসনাত : প্রতিষ্ঠান ছিল যার সাধনা
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি: পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি: পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ

আর্কাইভ