শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
Swadeshvumi
বৃহস্পতিবার ● ২৫ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » হাওড়াঞ্চলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করুন
প্রচ্ছদ » জাতীয় » হাওড়াঞ্চলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করুন
৫ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ২৫ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

হাওড়াঞ্চলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করুন

সংসদে ফজলুর রহমানের দাবি

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাওড়াঞ্চলের উন্নয়নে আলাদা ‘হাওড় মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বাড়ানোর জোর দাবি জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ৭৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ সংসদ সদস্য আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তিনি ৪০ বছর পর আবার সংসদে ফিরে আসার স্মৃতিচারণ করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাজেট উপস্থাপনকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফজলুর রহমান ১৯৭২ সালের প্রথম বাজেটের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, তখনকার ৪৫০ কোটি টাকার বাজেট থেকে আজকের প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেটে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। তবে হাওড়াঞ্চলের প্রতি অবহেলা ও উন্নয়ন বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাজেট বইয়ে হাওড় অঞ্চলের বিষয়ে মাত্র একটি লাইন উল্লেখ থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহৎ ভাটি অঞ্চল—চাঁদপুর থেকে গারো পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত হাওড় এলাকায় বারবার বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একসময় কৃষি ও মৎস্যে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল এখন জীবিকার সংকটে ভুগছে এবং মানুষ শ্রমিক হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি পৃথক ‘হাওড় মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানান।

এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা অন্তত এক টাকা হলেও বৃদ্ধি করা উচিত। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের জন্য ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বাজেটে তাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার তুলনা করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ককে অবিচ্ছেদ্য উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, একটি জাতির সুস্থ বিকাশে সংস্কৃতি অপরিহার্য। বাউল গান, নাটক, খেলাধুলা ও ধর্মীয় উৎসবকে বাধাগ্রস্ত করার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড সমাজকে পিছিয়ে দিতে পারে।

তিনি হাওড় অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য স্থগিত থাকা একটি বৃহৎ ফ্লাইওভার প্রকল্প পুনরায় চালুর আহ্বান জানান।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি ধর্মীয় সহিংসতা ও মাজার ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানান এবং সরকারের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি হাওড়াঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

# সংসদ/শায়লা



বিষয়: #



আর্কাইভ