শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Swadeshvumi
মঙ্গলবার ● ২৩ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ, স্পিকারের অসন্তোষ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ, স্পিকারের অসন্তোষ
৪ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২৩ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ, স্পিকারের অসন্তোষ

বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বাণিজ্য ঘাটতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও দিনব্যাপী আলোচনা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত হয়। এদিন আলোচনার শুরুতেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলাভঙ্গ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের চেয়ে কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুজব ও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট না করারও আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং সংসদ কক্ষের ভেতরে অগোছালো আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর রাখতে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি এবং সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শোনার মাধ্যমে জবাবদিহি বাড়ে। তিনি সংসদ কক্ষের ভেতরে ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

এদিন বাজেট আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম জুলাই যোদ্ধাদের রাজনৈতিক সুরক্ষার দাবি তোলেন। তার বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার আইনি কাঠামোর মধ্যেই জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করছে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি আইন রাষ্ট্রের নীতি ও রাজনৈতিক দলিলের অংশ, তাই সুরক্ষাও আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়। তিনি বর্তমান সরকারকে বিভিন্ন রাজনৈতিক চেতনার প্রতিনিধিত্বকারী সরকার হিসেবেও উল্লেখ করেন।

একই আলোচনায় জুলাই গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার ধীরগতি, শহীদ ও আহতদের তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া এবং ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা ব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

অন্যদিকে সংসদে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। এক বছরে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে এসেছে। এর মধ্যে সর্বাধিক এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, এরপর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। উপসাগরীয় দেশসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ এসেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

সংসদে আরও জানানো হয়, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮টি দেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি চীন ও ভারতের সঙ্গে। শিল্প খাতে আমদানিনির্ভরতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে জানানো হয়। সরকার রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে এই ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।




বিষয়: #  #



আর্কাইভ