শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বৃহস্পতিবার ● ২১ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা এখনো বড় সংকট
প্রচ্ছদ » জাতীয় » গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা এখনো বড় সংকট
১৯ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ২১ মে ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা এখনো বড় সংকট

--- 

# আলাদা বাস শুধু নয়, দরকার মানবিক ও নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত এখনো অনিরাপদ, অস্বস্তিকর ও হয়রানিপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, নারী যাত্রী, সাংবাদিক ও পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, শুধু আলাদা নারী বাস চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন সামগ্রিকভাবে নিরাপদ, মানবিক ও নারীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথোরিটি (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় গবেষণা জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ও প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম। আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী যাত্রী ও সাংবাদিকরা জানান, কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য এখনো অধিকাংশ নারী বাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাসে ওঠা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথেই তারা নানা ধরনের হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন।

---

নাসিমুন হক আরা মিনু বলেন, গণপরিবহন সবার জন্য হলেও বাস্তবে নারীদের প্রতিদিন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। বাসের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে শরীরে হাত দেওয়া, ইচ্ছাকৃত স্পর্শ ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। তিনি বলেন, অনেক নারী এসব অভিজ্ঞতার কথা পরিবারেও বলতে পারেন না, যা তাদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরাপদ গণপরিবহন অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি বাসে অভিযোগ নম্বর, আচরণবিধি ও নারীদের হয়রানির শাস্তি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের দাবি জানান তিনি।

 

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে দক্ষ নারী বাসচালকের অভাব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

---

ডিটিসিএর সাবেক নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নারী যাত্রীদের চলাচল, সমস্যা ও যাত্রীচাপ বিষয়ে সমন্বিত তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

 

অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-জামান খান বলেন, নারীরা শুধু বাসের ভেতরে নয়; বাসস্টপে যাওয়া, বাসে ওঠা-নামা এবং বাসা পর্যন্ত ফেরার পুরো পথেই অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন। তিনি বাসে সিসিটিভি, কার্যকর সংরক্ষিত আসন, আলাদা ওঠা-নামার দরজা এবং নিরাপদ ফুটপাত ও বাসস্টপ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।

মো. সাইফুল আলম বলেন, নারীদের জন্য আলাদা বাস সাময়িক সমাধান হতে পারে, তবে স্থায়ী সমাধান হলো সবার জন্য নিরাপদ ও মানবিক গণপরিবহন নিশ্চিত করা। চালক-হেলপারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী কাউন্টারকর্মীরাও কর্মক্ষেত্রে অপমানজনক আচরণ ও প্রয়োজনীয় টয়লেট সুবিধার অভাবের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা ও আচরণগত পরিবর্তনও জরুরি।

 



বিষয়: #



আর্কাইভ