শিরোনাম:
ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
Swadeshvumi
রবিবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » শিল্পীদের কী রাজনীতি করা উচিত?
প্রচ্ছদ » জাতীয় » শিল্পীদের কী রাজনীতি করা উচিত?
১০ বার পঠিত
রবিবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শিল্পীদের কী রাজনীতি করা উচিত?

অভিনেতা আফজাল হোসেন

আফজাল হোসেন

 

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— শিল্পীদের কী রাজনীতি করা উচিত? প্রশ্নটি আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে। কেননা, রাজনীতি মানুষের বিষয়; মানুষই রাজনীতি করে। সুতরাং, শিল্পী যদি মানুষ হন, তবে তার রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও আলাদা করে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন কী?

একজন মানুষের যেমন নিজের দেশ, সমাজ, মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতা থাকার কথা, তেমনই একজন শিল্পীরও। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি, কেউ না কেউ সবসময় বলে দেয়— কীভাবে চলতে হবে, কীভাবে বলতে হবে, কীভাবে ভাবতে হবে।

সময়ে সময়ে এমন মানুষ দেখা যায় যারা নিজেদের ‘সত্যিকারের দেশপ্রেমিক’ দাবি করে অন্যদের ভয় দেখায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—
মানুষকে দমন করা, হামলা করা, চুপ করিয়ে দেওয়া— এসব কি দেশপ্রেম? প্রকৃত দেশপ্রেমিকরা কখনোই তা প্রদর্শনের জন্য উচ্চকণ্ঠ হন না। তাদের কাজেই তা প্রকাশ পায়।

আমাদের সমাজে একটি শব্দ খুব পরিচিত—’দুঃস্থ শিল্পী’। কিন্তু আমরা কি কখনো শুনি—দুঃস্থ ব্যবসায়ী, দুঃস্থ রাজনীতিবিদ, বা দুঃস্থ ঠিকাদার? এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দেখায়— সমাজ শিল্পীদের মূল্যায়ন করে না, বরং অবহেলা করে।

শিল্পীরা সাধারণত আপসহীন হন। তারা সত্য ও সততার পক্ষে দাঁড়াতে চান, কোন সমঝোতা করতে চান না। কিন্তু এই অবস্থানই অনেক সময় তাদের বিপদে ফেলে। সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষরা তখন তাদের অসামাজিক, ধর্মবিরোধী কিংবা চরিত্রহীন বলে আখ্যা দেয়। আসলে এটি শিল্পীর নয়, সমাজের সংবেদনশীলতার সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন।

জনপ্রিয়তা যেমন সম্মান আনে, তেমনি সমালোচনাও টেনে আনে। শিল্পীরা তাই সহজেই সমালোচনার লক্ষ্য হয়ে ওঠেন। কারণ তাদের নিয়ে নেতিবাচক কিছু বললে দ্রুত মনোযোগ পাওয়া যায়— এটিও এক ধরনের সামাজিক প্রবণতা। জনপরিচিতির কারণে শিল্পীরা সহজেই সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন।

শিল্পীদের জীবন সহজ নয়। শিল্পীজীবন মানেই অনিশ্চয়তা— আর্থিক নিরাপত্তা কম, সামাজিক স্বীকৃতি সীমিত, কাজের পরিবেশ অনিশ্চিত, তারপরও তারা সৃষ্টি করে যান— ভালোবাসা ও বিশ্বাস থেকে।

বর্তমান বাস্তবতায় রাজনীতি অনেক সময় নিরাপত্তা ও ক্ষমতার উৎস হিসেবে কাজ করে।ফলে আমরা প্রায়ই দেখি— রাজনীতি অসৎ মানুষকেও ক্ষমতা ও নিরাপত্তা দেয়। এই বাস্তবতায় যদি কোনো শিল্পী নিরাপত্তার জন্য রাজনীতির আশ্রয় নেন, সেটিকে কি অন্যায় বলা যায়? 

আমার প্রশ্ন শুধু শিল্পীদের নিয়েই কেন এই বিতর্ক? সমাজে তো অসংখ্য পেশার মানুষ আছে। তাদের নিয়ে তো কেউ প্রশ্ন তোলে না— তারা রাজনীতি করবে কি না! তাহলে শুধু শিল্পীদের ক্ষেত্রেই এই প্রশ্ন কেন? এই প্রশ্নের উত্তর সমাজকেই খুঁজে নিতে হবে।

আমি নিজে রাজনীতিতে যুক্ত হইনি, হবও না। আমার বিশ্বাস— নিজের কাজের মাধ্যমেই দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। তবে—
যে কেউ, যে পেশারই হোক, নিজের ইচ্ছা ও বিশ্বাস অনুযায়ী রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারে। এটি তার অধিকার।

শিল্পীদের নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা অর্থহীন। এটি অনেকটা সেই প্রবাদটির মতো— ‘মাছ না পেয়ে ছিপে কামড়।’ আর যারা শিল্পীদের দোষারোপ করে আত্মতৃপ্তি পান, তাদের জন্য হয়তো এই কথাটিই প্রযোজ্য— ‘ভাত দেবার ক্ষমতা নেই, কিল মারার গোঁসাই।’

লেখক: অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রশিল্পী (লেখাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত ও সম্পাদিত)



বিষয়: #



আর্কাইভ