বুধবার ● ৩ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » হাম-উপসর্গে ৬০০ এর বেশি শিশুর মৃত্যু
হাম-উপসর্গে ৬০০ এর বেশি শিশুর মৃত্যু
# নতুন শনাক্ত ১,২৬৫, উদ্বেগে স্বাস্থ্য বিভাগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাবে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬০১ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৬৫ জনের শরীরে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২১০ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ৫৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে ৫১১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃতদের বড় অংশই শিশু। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা গ্রহণ করেনি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের মধ্যে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৭৪ হাজার ৫৭২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ হাজার ১৯১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
এ সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬০ হাজার ১৫৮ জন রোগী। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৫ হাজার ১৪২ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রোগটি প্রতিরোধে এমআর টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই যেসব শিশু এখনো টিকা গ্রহণ করেনি, তাদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় এখনও নতুন নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অন্যথায় আগামী সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আক্রান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিষয়: #হাম-উপসর্গে ৬০০ এর বেশি শিশুর মৃত্যু





জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের খলিলুর রহমান
বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ
তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
ছুটি শেষে সচিবালয়ে ঈদের আমেজ, কর্মব্যস্ততা শুরু
‘আমি পাপ করেছি আমাকে শাস্তি দিন’: আসামি সোহেল
চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক থাকার আহ্বান জানালো এনবিআর 
