শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
Swadeshvumi
শনিবার ● ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » যত সহজ হব, তত বেশি সুখী হব: কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল
প্রচ্ছদ » জাতীয় » যত সহজ হব, তত বেশি সুখী হব: কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল
৬ বার পঠিত
শনিবার ● ১৮ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

যত সহজ হব, তত বেশি সুখী হব: কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল

‘হ্যাপি দ্য ম্যান: সুখের সমীকরণ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

কথাসাহিত্যিক ও খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেছেন, যাপিত জীবনে মানুষ যত বেশি সহজ হতে পারবে, সে তত বেশি সুখী হবে। হিংসা- দ্বেষ পরিহার করে তিনি সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধের দেশ গড়তে সবাইকে একতাবদ্ধ হতে বলেছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অরুণ কুমার বিশ্বাসের ‘হ্যাপি দ্য ম্যান: সুখের সমীকরণ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোস্তফা কামাল। এ আয়োজনে শিশুসাহিত্যিক সুজন বড়ুয়া, লেখক-ছড়াকার দন্ত্যস রওশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্ম সচিব ড. শাহ আবদুল সাদী, গ্রিন ইউনিভার্সিটির ইংরেজির অধ্যাপক ড. এলহাম হোসেন, কবি ও অধ্যাপক নীলিমা শীলসহ আরও অনেকে এই আয়োজনে বক্তব্য দেন।

‘হ্যাপি দ্য ম্যান: সুখের সমীকরণ’ বইটি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এই জটিল পৃথিবীতে সহজ মানুষের সংখ্যা খুব কম। আমরা যতটা সহজ হতে পারবো ততটা বেশি সুখী হতে পারব।’

অরুণ কুমারের শব্দচয়নে মুগ্ধ কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অরুণ তার লেখনীর মাধ্যমে

নতুন প্রজন্মকে উদ্দীপ্ত করছেন। তিনি কোনো প্রলোভন দেখাচ্ছেন না। বরং তরুণদের বলছেন, আপনি যে অবস্থানে আছেন সেই অবস্থায় আমি সুখী। আসলে সেটাই কিন্তু সবচেয়ে বড় সুখ।’

অরুণ কুমার তার লেখায় ‘পরশ্রীকাতর’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন। সেই শব্দের দ্যোতনা ভাবিয়ে তুলে মোস্তফা কামালকে। তিনি বলেন, বাঙালি তো সত্যিকার অর্থেই পরশ্রীকাতর। নিরোদ সি. চৌধুরী ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ গ্রন্থে আমাদের এই মনস্তাত্ত্বিক সংকটের কথা তুলে ধরেছিলেন। পরশ্রীকাতরতাই বাঙালির আত্মঘাতী হওয়ার মূল কারণ। অন্যের সাফল্য দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া, কিংবা অমুক কেন বড় হলো, আমি কেন পারলাম না- এমন নেতিবাচক মানসিকতা থেকে জন্ম নেয় প্রতিহিংসা। শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় মারামারি-কাটাকাটির মতো চরম অস্থিতিশীলতায়।

সুস্থ সমাজ গঠনে নাগরিক সমাজকে এই মানসিকতার শেকড় উপড়ে ফেলার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষের প্রেক্ষাপট নিয়েও কথা বলেন মোস্তফা কামাল। অগ্নিগর্ভ সে সময়ে খবরের কাগজের সাংবাদিকতা, পেশাদারত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস অগ্নিকুণ্ডের সামনেই। আমরা অফিসে বসে দেখেছি, ভবনের নিচে গোলাগুলি চলছে। যেকোনো মুহূর্তে আমাদের অফিসে হামলা হতে পারত; কেউ এসে আগুন দিতে পারত। তখন আমরা একটা সুতার ওপর দিয়ে চলেছি। আমরা একটা কঠিন মানে সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমরা যদি বিন্দুমাত্র ভুল করতাম তাইলে কিন্তু আমাদের যেকোনো ক্ষতি হতে পারত। কিন্তু আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি আমাদের পেশাদারত্ব ধরে রাখতে। আমরা মিথ্যার সঙ্গে কোনোভাবেই আপোষ করব না। আমরা সবসময় সত্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জাতীয় কবির সাম্যবাদের বাণী স্মরণ করেন মোস্তফা কামাল। তিনি প্রত্যাশা করেন, অস্থির সময় পেরিয়ে এসে বাংলাদেশ সত্যিই সব ধর্ম, বর্ণ ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দেশ হবে।

জীবনকে সফল ও সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা সুখ। জটিল পৃথিবীতে সুখের সংজ্ঞা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মতোই ভিন্ন। এই দর্শনকে সামনে রেখে প্রকাশিত হয়েছে অরুণ কুমার বিশ্বাস রচিত নতুন বই ‘হ্যাপী দ্য ম্যান: সুখের সমীকরণ’। বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস লিমিটেড।

অরুণ কুমার বিশ্বাস মনে করেন, সুখ হলো মনের একটি অনুভূতি, যা মানুষ নিজেই তৈরি করে। এটি কোনো ফর্মুলার বিষয় নয়। অনেক সময় অঢেল সম্পদ থাকার পরেও মানুষ মানসিক তৃপ্তি পায় না, আবার সাধারণ জীবনযাপন করেও কেউ কেউ পরম সুখ অনুভব করেন। তার মতে, চাহিদা যত কম, সুখ তত বেশি। মার্কিন মনোবিজ্ঞানী আর্থার সি. ব্রুকসের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সুখ হলো নিজস্ব পছন্দ, ইতিবাচক মানসিকতা এবং ভালো কাজের সুশৃঙ্খল অনুশীলনের সংমিশ্রণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পদস্থ কর্মকর্তা অরুণ কুমার বিশ্বাস রহস্য-রোমাঞ্চভিত্তিক গল্প, উপন্যাস লেখেন। পাশাপাশি তিনি বেশকয়েকটি অনুপ্রেরণাদায়ক বইও লিখেছেন।



বিষয়: #



আর্কাইভ