সোমবার ● ১ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ঈদের ছুটিতে হামে ৫৭ শিশুর মৃত্যু, সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী
ঈদের ছুটিতে হামে ৫৭ শিশুর মৃত্যু, সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী
সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ১৭৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৪৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯০ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৮ জনে।
একই সময়ে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭২ হাজার ৭০ জনের। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৭ হাজার ৯০২ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৭২২ জন। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
ঈদের ছুটিতেও কমেনি সংক্রমণ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঈদুল আজহার সাত দিনের ছুটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ১২৭ জন এবং মারা গেছে ৫৭ শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যুর এ ধারা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, অপুষ্ট শিশুদের শনাক্তকরণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালে বাড়তি সতর্কতা
সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানীর মহাখালী ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম ইউনিটে প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কাউকে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। রোগীর স্বজনদেরও ভিজিটর কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসির ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আসিফ হায়দার বলেন, বর্তমানে হামের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও যেসব শিশু টিকা নিয়েছে তাদের মধ্যে রোগের তীব্রতা তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। তবে অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।
হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে হামের সবচেয়ে বড় জটিলতা হচ্ছে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া। অনেক ক্ষেত্রে এটি সাধারণ নিউমোনিয়ার চেয়ে বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
তিনি জানান, হামের জ্বর ও শরীরের র্যাশ সেরে গেলেও চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল থাকে। এ সময় শিশুদের আলাদা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।
ডেঙ্গুতেও মৃত্যু অব্যাহত
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১০ জন।
চলতি বছরের ১ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩০৭ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ১৩৮ জন। এ বছর ডেঙ্গুতে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়তে শুরু করায় জনস্বাস্থ্যের ওপর দ্বৈত চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা, টিকাদান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
বিষয়: #ঈদের ছুটিতে হামে ৫৭ শিশুর মৃত্যু #সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী





ছুটি শেষে সচিবালয়ে ঈদের আমেজ, কর্মব্যস্ততা শুরু
‘আমি পাপ করেছি আমাকে শাস্তি দিন’: আসামি সোহেল
চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক থাকার আহ্বান জানালো এনবিআর
শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণ, বর্ণাঢ্য রাজনীতিকের জীবনাবসান
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই 
