শিরোনাম:
ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ১১ মার্চ ২০২৬
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » ঢাকার ঈদ মেলাগুলোতে ক্রেতা সংকট
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » ঢাকার ঈদ মেলাগুলোতে ক্রেতা সংকট
৬৩ বার পঠিত
বুধবার ● ১১ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ঢাকার ঈদ মেলাগুলোতে ক্রেতা সংকট

---

শায়লা শবনম

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীতে একের পর এক বসছে ঈদ মেলা। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হ্যান্ডমেড গয়না, হস্তশিল্প এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য এক ছাদের নিচে প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও প্রকৃত ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না।

গত ৮ মার্চ থেকে রাজধানীর ধানমণ্ডির জয়িতা ফাউন্ডেশনে চলছে ৭ দিনব্যাপী জয়িতা ঈদ মেলা। মেলা প্রতিদিন খোলা থাকছে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত । মেলায় অংশ নিয়েছেন দেশজুড়ে প্রায় ৫০ জন নারী উদ্যোক্তা। এখানে দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, হ্যান্ডমেড গয়না, পাট ও চামড়াজাত সামগ্রী এবং সুগন্ধি পাওয়া যাচ্ছে। মেলার মূল লক্ষ্য উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরা এবং ক্রেতা-বিক্রেতার সরাসরি সংযোগ স্থাপন।

---

জয়িতা ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বড় সুযোগ। ক্রেতারা এক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পণ্য দেখতে ও কিনতে পারছেন। প্রতিদিনের কার্যক্রমে উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে।” তবে বিক্রেতাদের অভিযোগ, দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও প্রকৃত ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে ৮ মার্চ শুরু হওয়া ৯ দিনব্যাপী তাঁতশিল্প মেলাও এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণ কেন্দ্র। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও যশোরসহ বিভিন্ন জেলার অন্তত ১৮টি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলার দোকান খোলা থাকে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এখানে জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, কাতান, মণিপুরি পোশাক, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি ও গামছা, কুমিল্লার খাদি, কুমারখালীর বেডশিট এবং রাজশাহীর সিল্কসহ বিভিন্ন ধরনের তাঁতপণ্য পাওয়া যাচ্ছে।---

ফিস্টডিলসের প্রধান নির্বাহী রুমানা নাসরিন বলেন, “অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থাকলেও অফলাইন বিক্রি বেশি। মেলায় ক্রেতারা সরাসরি পণ্য দেখতে ও কিনতে পারছেন। পাইকারিরাও এখানে সোর্সিং করছেন।” নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী মামুন শহরিয়ার বলেন, “ব্যক্তিগত কেনাকাটার জন্য নয়, ব্যবসার জন্য এসেছি। পাইকারি দামে পণ্য পাওয়া যায়, যা পরে শোরুমে বিক্রি করা যায়।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশি পণ্যের আধিপত্য এবং আধুনিক ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিংয়ের অভাব দেশীয় পণ্যের বিক্রিতে বাধা সৃষ্টি করছে। মূল্য, মান ও আধুনিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকার কারণে ক্রেতা এখনও প্রত্যাশিত উৎসাহ দেখাচ্ছে না।---

তাঁতশিল্প মেলার প্রধান আয়োজক বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের লিয়াজোঁ অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “মেলার উদ্দেশ্য শুধু বিক্রি নয়; তাঁতিদের পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরা। এই আয়োজন দেশীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

গত ৭ মার্চ শেষ হওয়া মাইডাস সেন্টারের তিন দিনের ঈদ মেলায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫৬ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। মেলায় শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি-ফতুয়া, হাতে তৈরি পোশাক, গয়না ও ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছিল।

---

উদ্যোক্তারা জানান, “মেলায় ক্রেতা প্রত্যাশা অনুযায়ী উপস্থিত নয়। গত মাসে অন্যান্য ইভেন্টে বিক্রি ভালো হলেও এবার সেই সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।” ফলে এখানে ক্রেতার তুলনায় দর্শনার্থীর ভিড় বেশি থাকায় বিক্রেতারা অসন্তুষ্ট। তবে অনেক ক্রেতা পরিবার নিয়ে ঘুরে দেখছেন এবং অফারে পণ্য কিনতে আগ্রহী। কলাবাগান এলাকা থেকে আসা গৃহিণী মৌসুমি জামান বলেন, “এক ছাদের নিচে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পণ্য পাওয়া যায়। সুযোগ পেলেই মেলায় ঘুরে দেখি, পছন্দ হলে কিছু কিনি।”

ঢাকার জয়িতা, মাইডাস সেন্টার ও বেঙ্গল শিল্পালয়ের মেলায় দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও পণ্যের প্রদর্শনী, ক্রেতার আগ্রহ এবং বিক্রির বাস্তব চ্যালেঞ্জ এক সঙ্গে উঠে এসেছে। দর্শনার্থীর তুলনায় ক্রেতার কম উপস্থিতি এবং বিক্রেতাদের অসন্তোষ দেশীয় পণ্যের বাজারে সঠিক প্রচারের প্রয়োজনীয়তা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করছে।






আর্কাইভ