শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২
Swadeshvumi
বুধবার ● ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » ভোটের কাউন্ট ডাউন শুরু: ৮৪ আসনে ভোট স্থগিত ও জঙ্গি হামলার শঙ্কা!
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » ভোটের কাউন্ট ডাউন শুরু: ৮৪ আসনে ভোট স্থগিত ও জঙ্গি হামলার শঙ্কা!
১৪০ বার পঠিত
বুধবার ● ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভোটের কাউন্ট ডাউন শুরু: ৮৪ আসনে ভোট স্থগিত ও জঙ্গি হামলার শঙ্কা!

---

শায়লা শবনম

জাতীয় নির্বাচনের কাউন্ট ডাউন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক মাঠে যেমন উত্তাপ বাড়ছে, তেমনি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৮৪টি আসনে ভোট স্থগিতের সম্ভাবনা এবং একই সঙ্গে জঙ্গি হামলার শঙ্কা সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে এসব আসনে ভোটগ্রহণ পেছানো বা পুনঃতফসিল ঘোষণার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ আসন চিহ্নিত কেন

ইসির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কয়েকটি মানদণ্ডে আসনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয়তা, অতীতের ভোটকেন্দ্র দখল ও সহিংসতার নজির, এবং স্থানীয়ভাবে চরমপন্থী তৎপরতার গোয়েন্দা তথ্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব সূচকের একাধিকটির উপস্থিতি থাকলেই কোনো আসনকে ‘হাই রিস্ক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ও গোয়েন্দা সতর্কতা

নির্বাচন ঘিরে জঙ্গি বা নাশকতামূলক হামলার আশঙ্কা নতুন নয়। তবে এবারের প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভোটের দিন বা তার আশপাশে কিছু গোষ্ঠী ভীতি সৃষ্টি, কেন্দ্রভিত্তিক বিশৃঙ্খলা বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ভোটকেন্দ্র, প্রার্থীদের প্রচারস্থল এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বাড়তি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে মাল্টি-লেয়ার নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে।

ভোট স্থগিতের আইনগত ভিত্তি

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, গুরুতর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সহিংসতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ অসম্ভব হলে ইসি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা পুরো আসনের ভোট স্থগিত করতে পারে। অতীতে এমন নজির রয়েছে—যেখানে সহিংসতা, ব্যালট ছিনতাই বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হারালে ভোট বন্ধ করে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ভোট স্থগিত কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ফল।

রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান

বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, ঝুঁকির অজুহাতে ভোট স্থগিত হলে তা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাদের দাবি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে সহিংসতা ও অনাস্থা আরও বাড়বে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব; প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট স্থগিতের মতো সিদ্ধান্ত আইনি হলেও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ

মাঠ প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—একদিকে সহিংসতা ও নাশকতা ঠেকানো, অন্যদিকে ভোটারদের আস্থা ফেরানো। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিকল্পনায় মোবাইল কোর্ট, দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম, সিসিটিভি ও ড্রোন নজরদারির মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে জনবল, সমন্বয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ—এই তিনটি বিষয় বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ভোটার উপস্থিতি ও আস্থার প্রশ্ন

ঝুঁকিপূর্ণ আসনে ভোটারদের বড় একটি অংশ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে নির্বাচনের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন উঠে। সুশাসনকর্মীরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল ভোটের দিন নয়; আগের কয়েক সপ্তাহ থেকেই পরিবেশ শান্ত রাখা জরুরি।

সম্ভাব্য দৃশ্যপট

বিশেষজ্ঞরা তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপটের কথা বলছেন—

১) সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত দিনে সব আসনে ভোট,

২) কিছু কেন্দ্র বা আংশিক এলাকায় ভোট স্থগিত,

৩) পরিস্থিতি গুরুতর হলে পুরো আসনে পুনঃতফসিল।

এর মধ্যে কোন পথে যাবে, তা নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

ভোটের কাউন্ট ডাউন শুরু হলেও ৮৪টি ঝুঁকিপূর্ণ আসন ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। জঙ্গি হামলার শঙ্কা ও সম্ভাব্য ভোট স্থগিত—দুটিই নির্বাচনের পরিবেশকে চাপের মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় ইসির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে, রাজনৈতিক আস্থা বজায় রেখে নির্বাচন পরিচালনা করা। আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।






আর্কাইভ