শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » প্রবাসীদের আইনি জটিলতায় বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেবে সরকার
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » প্রবাসীদের আইনি জটিলতায় বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেবে সরকার
১ বার পঠিত
বুধবার ● ১৪ অক্টোবর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

প্রবাসীদের আইনি জটিলতায় বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেবে সরকার

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসীদের হয়রানি ও আইনি জটিলতা নিরসনে বিশেষ আদালত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিদেশে বৈধ কাগজপত্রের সমস্যায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাঁদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, উপযুক্ত জীবনযাপন ও মর্যাদাও নিশ্চিত করতে হবে। কঠোর পরিশ্রম করেও অনেক শ্রমিক পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পান না। তাঁদের আবাসন, নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান ও তাঁদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ১১টি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার।

তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চলছে। এ কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ফিরে প্রবাসীরা যাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও গড়ে তোলার কথা ভাবছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ফিরে জমিজমাসংক্রান্ত সমস্যায় পড়া প্রবাসীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সেবা বা প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণসুবিধা বাড়িয়ে দেশে ফিরে ব্যবসা, নতুন উদ্যোগ কিংবা বাড়ি নির্মাণে আগ্রহীদের সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রামরুর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেন, অভিবাসন খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করে এ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ঢাকায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডিয়েপাক এলমার এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের অধ্যাপক ড. নিল অ্যাডজার।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, শ্রম অভিবাসন, মানব পাচার ও প্রবাসী আয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণার ফলাফল ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

রামরুর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ বছরে সংস্থাটি ১০০টির বেশি গবেষণা পরিচালনা করেছে, ১৩টি জাতীয় নীতি ও কৌশল প্রণয়নে অবদান রেখেছে এবং বাংলাদেশের ২১ জেলায় অভিবাসীদের অধিকারভিত্তিক সেবা দিয়েছে।

 



বিষয়: #



আর্কাইভ