সোমবার ● ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » নভেম্বরে ইউপি ভোট দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু
নভেম্বরে ইউপি ভোট দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু
ইসির রোডম্যাপ ঘোষণা
![]()
শায়লা শবনম
দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজন করা হবে।
গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, ইউপি নির্বাচন সাত ধাপে করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত তফসিল পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে কমিশন।
ইসি কমিশনার বলেন, দেশের মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি। এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সাত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির ঘোষিত এই রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে দেশের ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোটের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নতুন পর্ব শুরু হবে। আর এটি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম নির্বাচন।
- দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের ৪ হাজার ৫৮০টি
- প্রথমেই ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন, ৮০ উপজেলায় ভোট ১২ নভেম্বর ২য় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, ৩য় ৩০ ডিসেম্বর, ৪র্থ ১৭ জানুয়ারি, ৫ম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ৬ষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে ইউপি নির্বাচন দলীয় প্রতীক থাকবে না, ভোট হবে নির্দলীয় ব্যক্তি প্রতীকে
- রাজনৈতিক দল বিবেচ্য নয়, বৈধ প্রার্থী হলেই ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ
- নতুন নীতিমালায় কড়াকড়ি: শোডাউন, হেলিকপ্টার ও মশাল মিছিল নিষিদ্ধ
- ভোটের সমন্বয়ে বৃহস্পতিবার ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে ইসির বৈঠক
৮০ উপজেলায় প্রথম ধাপের ভোট
ইসি জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদকে ভোটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে পারি আমরা। এগুলো আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিশন। এ বিষয়ে তৃতীয় ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশের বিপুলসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদে একসঙ্গে ভোট আয়োজনের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নির্বাচন করলে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি ধাপের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী পরিবেশ পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।
দলীয় প্রতীক নয়, ব্যক্তি প্রতীকে ভোট
নতুন নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়া। দীর্ঘদিন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার পর এবার প্রার্থীরা ব্যক্তি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না।
প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেবেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী বৈধ প্রার্থী হলে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য হবে না; তবে কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে আইনগত বা বিধিগত অযোগ্যতা থাকলে তা কার্যকর থাকবে।
এই পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সরাসরি প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। তবে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা সমর্থকদের ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নতুন ব্যবস্থায় আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
![]()
আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন
দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ব্যক্তি প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। কমিশন বলছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রার্থীর বৈধতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে নির্দলীয় কাঠামোকে কোনো নির্দিষ্ট দলের অংশগ্রহণের অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কমিশন বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনায় আনতে চাইছে।
প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ
নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রার্থীদের প্রচারে ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল কিংবা নৌযান নিয়ে শোডাউন করা যাবে না। হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং মশাল মিছিলও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিতসংখ্যক বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এসব প্রচারসামগ্রীর আকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল এ-ফোর আকারের এবং ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিলবোর্ডের প্রচার অংশের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।
ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রচার
নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি মাইক ব্যবহার করা যাবে এবং শব্দের মাত্রাও নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
একই সময়সীমায় ভ্রাম্যমাণ বাহন বা ক্যারাভান ব্যবহার করেও প্রচার চালানো যাবে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর জন্য ব্যয় করা অর্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে দেখাতে হবে। প্রচার শুরুর আগে প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মের তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অপপ্রচার নিষিদ্ধ
নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর বিষয়বস্তু তৈরি ও প্রচারের ওপরও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। অপপ্রচার, ঘৃণা ছড়ানো কিংবা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে প্রযুক্তির অপব্যবহার করলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ছাড়া ভোটারদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা মোবাইল নম্বর সংগ্রহের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ভোটারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। মোবাইল আর্থিক সেবায় লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা
নতুন বিধিমালায় প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়েও বিধান রাখা হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি এবং খেলাপি ঋণের জামিনদারদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। লিখিত আদেশের মাধ্যমে প্রার্থিতা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান বহাল রয়েছে।
‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ সদস্যসহ নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রচারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
সাংবাদিকদের অনলাইনে নির্বাচনী কার্ড
ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনেই সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের জন্য অনলাইনে কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে সাংবাদিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য কার্ড সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ ও আচরণবিধি পালনের বিষয়েও নজরদারি থাকবে।
মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠক
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে আগামী বৃহস্পতিবার ২৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ২টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন।
সভায় জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন, তথ্য ও সম্প্রচার, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, নৌপরিবহন, পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার-ভিডিপি, গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, ডাক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বিপুলসংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অর্থ ও যোগাযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রস্তুতি সমন্বয় করতেই এ বৈঠক।

ভোট নির্দলীয়, তবে অরাজনৈতিক নয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নতুন কাঠামো নিয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, নির্দলীয় নির্বাচন মানেই অরাজনৈতিক নির্বাচন নয়। নির্বাচন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। আর তা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা সমর্থক। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন।
জেসমিন টুলীর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—দলগুলো যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার না করে এবং কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে। এ ধরনের সংলাপ ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয় বলেও মনে করেন তিনি।
স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন বড় পরীক্ষা
দীর্ঘদিন প্রশাসকের অধীনে থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন এবার বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করেন জেসমিন টুলী। তার মতে, স্থানীয় পর্যায়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সব সময়ই চ্যালেঞ্জের। তিনি বলেন, নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা মেনে চলা, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণবিধি মানানো এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে কমিশনকে।
সাত ধাপে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের নির্বাচনগুলোও কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও ঘোষিত সাত ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মামলা বা অন্য কোনো কারণে কোনো নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে না পারলে পরবর্তী সময়ে তা আয়োজন করতে হতে পারে। এ ধরনের নির্বাচন পরবর্তী ধাপগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে ব্যক্তি প্রতীকে ভোট, প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ এবং ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে নতুন কাঠামোয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে ১২ নভেম্বরের প্রথম ধাপের ভোট কতটা প্রস্তুত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
বিষয়: ##নভেম্বরে ইউপি ভোট দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু





আরএফইডির সহসভাপতি কাজী ফরিদকে হুমকি
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই : ইসি সচিব
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে বার্ষিক পরীক্ষার আগে বা পরে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি: ইসি সচিব
ইসিতে দুই প্রার্থীর ৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে: ইসি সচিব
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে চায় জামায়াত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য এমপিদের তালিকা তলব
ইসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত, শিগগিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তারিখ চূড়ান্ত হবে: সিইসি 
