শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা
প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা
৫ বার পঠিত
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

---

# ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে গাড়িচালককে মারধর ও শ্বাসরোধের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জেরে দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে বাদীকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পল্লবী থানায় মামলাটি করেন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। ওবায়দুর রহমান সংসদ সদস্য যাকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, সেই তরুণীর মামা।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলার পর পুলিশ আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার (২২ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যা বলা হয়েছে মামলায়

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তাঁর বোনের বাসায় থাকতেন এবং দীর্ঘদিন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে সংসদ সদস্যের ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে ওবায়দুরের ভাগ্নির সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর পরিবারকে অবহিত করেন এবং সংসদ সদস্যকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীর কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও সংগ্রহ করে একটি চক্র তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এ ঘটনায় ওবায়দুর রহমানের ওপর সন্দেহ করেন সংসদ সদস্য। তার ধারণা ছিল, ওবায়দুরই গোপনে ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট চক্রের কাছে সরবরাহ করেছেন।

হামলার অভিযোগ

মামলায় বলা হয়েছে, গত ১৪ জুলাই সকালে আমিনুর রহমান কৌশলে ওবায়দুর রহমানকে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমিনুর রহমান তাকে মেঝেতে ফেলে গলা চেপে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করেন।

বাদীর দাবি, তার মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার করে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পরও আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিও প্রকাশ, বহিষ্কার ও নতুন বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।

সম্প্রতি এক তরুণীর সঙ্গে তার একাধিক ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রথমদিকে দলের অনেক নেতা-কর্মী ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুকে লিখে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম বেগম তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে সাংগঠনিক তদন্ত শেষে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে বুধবার তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর কথাও জানিয়েছে দলটি।

এদিকে দলীয় বহিষ্কার, সংসদ সদস্যপদ নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক এবং এবার হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামি হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।



বিষয়: #



আর্কাইভ