শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
Swadeshvumi
রবিবার ● ১২ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে সংসদে শোক
প্রচ্ছদ » জাতীয় » জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে সংসদে শোক
৫৯ বার পঠিত
রবিবার ● ১২ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে সংসদে শোক

---

# সরকার-বিরোধী দলের স্মৃতিচারণ, সংসদ ভবন চত্বরে সমাহিত


নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশিষ্ট আইনজীবী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা। সংসদের চলতি অধিবেশনে তাকে স্মরণ করে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ সময় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, আইন পেশায় সততা, গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল অবস্থান এবং মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন দলের নেতারা। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে সমাহিত করা হয়। শেষ বিদায় জানাতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী মহলের বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি জমির উদ্দিনের ছিল অবিচল আস্থা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তিনি সব সময় সংলাপ, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তিনি আইনের শাসন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতেন। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সততা ও পেশাগত সুনামে তিনি ছিলেন অনন্য উদাহরণ। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে জমির উদ্দিন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন সৎ, বিনয়ী এবং নীতিনিষ্ঠ। নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের জন্য তার কর্মজীবন অনুসরণীয় হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে বলেন, আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের পক্ষে নির্ভয়ে লড়াই করতেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে অসংখ্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার মৃত্যুতে দেশের আইন অঙ্গন একজন সাহসী ও নীতিবান ব্যক্তিত্বকে হারাল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার জমির উদ্দিনের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, আইন পেশা এবং জনজীবনে জমির উদ্দিনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরে ডেপুটি স্পিকারও পৃথক বক্তব্যে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার পর সংসদ সদস্যরা কিছু সময় নীরবতা পালন করেন। অধিবেশনে উপস্থিত সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও জমির উদ্দিন ছিলেন সবার কাছে শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তি। তার সৌজন্যবোধ, যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্য এবং গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি অঙ্গীকার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।

---

পরে মরহুমের মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে নিয়ে আসা হলে সেখানে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারাঙ্গনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার পরিবারের সদস্যরা সবার কাছে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চান।

জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়—সংসদে বক্তাদের বক্তব্যে এমন অভিমতই উঠে আসে। তারা বলেন, নীতি, সততা, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।



বিষয়: #



আর্কাইভ