বুধবার ● ৩ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম
# সর্বোচ্চ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে গ্রাহক পর্যায়ের বিল
# জুন থেকেই কার্যকর নতুন ট্যারিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে আবারও বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। পাইকারি, সঞ্চালন ও গ্রাহক—তিন স্তরেই নতুন ট্যারিফ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বেলা ৩টায় বিইআরসি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দর ঘোষণা করে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ট্যারিফ চলতি বছরের জুন মাসের বিলিং থেকেই কার্যকর হবে।
বিইআরসির ঘোষণায় বলা হয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি গড় মূল্য বর্তমান ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পাইকারি দরে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে সঞ্চালন খরচের গড় হার ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি। বিদ্যুতের একমাত্র সঞ্চালনকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) এর আগে প্রতি ইউনিট সঞ্চালন চার্জ ৩০-৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮-৪৯ পয়সা করার আবেদন জানিয়েছিল।
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার ভিন্ন হবে। লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ এবং অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের মাসিক ব্যয় বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব শিল্প খাতে আরও বেশি পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিইআরসির শুনানিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। সে হিসেবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ হবে প্রায় ১২ টাকা ৯১ পয়সা।
বিপিডিবি যুক্তি দেয়, উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হওয়ায় ভর্তুকির চাপ ক্রমেই বাড়ছে। সেই চাপ কমাতে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সে সময় পাইকারি ইউনিট মূল্য ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে ব্যয় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এর প্রভাব বাজারে পণ্য ও সেবার মূল্যেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিষয়: #পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম





হাম-উপসর্গে ৬০০ এর বেশি শিশুর মৃত্যু
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের খলিলুর রহমান
বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ
তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
ছুটি শেষে সচিবালয়ে ঈদের আমেজ, কর্মব্যস্ততা শুরু
‘আমি পাপ করেছি আমাকে শাস্তি দিন’: আসামি সোহেল 
