বৃহস্পতিবার ● ২১ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » অপরাধ » রামিসা হত্যাকাণ্ড: ছেলে সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান বাবা-মাও
রামিসা হত্যাকাণ্ড: ছেলে সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান বাবা-মাও
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ, শোক ও প্রতিবাদের মধ্যেই এবার ঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার নিজের বাবা-মাও।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার গ্রামের বাড়িতে বসে সোহেলের বাবা জাকের আলী ও মা খদেজা বেগম বলেন, ছেলে যে নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। তারা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি তুলছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সোহেলের নিজ গ্রামেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগেও চুরি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। জুয়ায় আসক্ত হয়ে তিনি বিপুল ঋণে জড়িয়ে পড়েন। এসব কারণে প্রায় তিন বছর আগে পরিবার থেকেই তাকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর আর নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করেননি তিনি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একসময় মহেশচন্দ্রপুর বাজারে সাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন সোহেল। তার বাবা জাকের আলী এখনও একই পেশায় জীবিকা নির্বাহ করেন। স্থানীয়ভাবে জাকের আলী একজন নিরীহ মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও ছেলে সোহেল ধীরে ধীরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
সোহেলের একমাত্র বোন জলি বেগম বলেন, “বিভিন্ন অপকর্ম আর ঋণের কারণে বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর সে আর বাড়িতে আসেনি। টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি দেখে আমরা হতবাক।”
তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন সোহেল। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রথম পক্ষের একটি সন্তান রয়েছে, যে বর্তমানে দাদা-দাদির কাছেই থাকে।
প্রতিবেশী আব্দুল আওয়াল জানান, ছোটবেলায় তার নাম ছিল শুধু রানা। পঞ্চম শ্রেণির পর আর লেখাপড়া হয়নি। তরুণ বয়সে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় পরিচিতি পান। পরে নিজেকে “এস এম রানা” নামে পরিচয় দিতেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় একটি সেতুর নির্মাণসামগ্রী চুরির মামলায়ও একসময় জেল খেটেছিলেন সোহেল।
সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট ঘরজুড়ে নেমে এসেছে নীরবতা। ছেলের কর্মকাণ্ডে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা।
মা খদেজা বেগম বলেন, “সব সন্তানকেই বাবা-মা ভালোবাসে। কিন্তু রানা যা করেছে, এরপর আর তাকে ভালোবাসা যায় না। আমরা তার বিচার চাই। সে খুবই খারাপ কাজ করেছে।”
বাবা জাকের আলী বলেন, “আমার ছেলে এত ভয়ংকর কাজ করতে পারে, তা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু অপরাধ তো সে করেছে। আমিও তার বিচার চাই। আদালত যে শাস্তি দেবে, আমরা তা মেনে নেব।”
বিষয়: #রামিসা হত্যাকাণ্ড/ছেলে সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান





স্ত্রী-তিন মেয়েসহ ৫ খুন: ‘আত্মহত্যা’ করেছে ঘাতক ফোরকান
অনুমতি ছাড়া কারো ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার: সংসদে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
‘ভালো বাপ, ভালো স্বামী হতে পারিনি, ক্ষমা করিস’: জুয়েল হাসান সাদ্দাম
প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
মনিরামপুরে প্রকাশ্যে যুবককে গুলি করে হত্যা
রাউজানে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
হাদি হত্যাকাণ্ড: মূল আসামি ফয়সালের ভিডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে ডিএমপি 
