শনিবার ● ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » প্রায় ৯০ শতাংশ প্রার্থী উচ্চশিক্ষিত, সম্পদে এগিয়ে বিএনপি প্রার্থীরা
প্রায় ৯০ শতাংশ প্রার্থী উচ্চশিক্ষিত, সম্পদে এগিয়ে বিএনপি প্রার্থীরা
সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন
শায়লা শবনম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৮৮ শতাংশ প্রার্থী উচ্চশিক্ষিত। তবে সম্পদ, আয়, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মামলার ক্ষেত্রে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য। বিএনপি জোটের ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন কোটিপতি, যেখানে জামায়াত জোটে ১২ জনের মধ্যে কোটিপতি মাত্র একজন। একই সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বেশি হলেও জামায়াত জোটে প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে মামলাহীন ও নবীন।
সম্পদ ও আয়: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতে সীমিত
হলফনামা বিশ্লেষণে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি স্পষ্ট হয় সম্পদ ও আয়ের ক্ষেত্রে। বিএনপি জোটের প্রার্থীদের বড় একটি অংশই আর্থিকভাবে শক্তিশালী। ৩৬ জনের মধ্যে অন্তত ১৬ জন কোটিপতি, যাদের সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা থেকে শুরু করে ৬–১০ কোটির কাছাকাছিও রয়েছে। অনেকের আয় আসে ব্যবসা, শেয়ার, ব্যাংক আমানত, ভাড়া ও জমি বিক্রি থেকে। অন্যদিকে জামায়াত জোটে কোটিপতি মাত্র একজন—সাবিকুন্নাহার। অধিকাংশ প্রার্থীর সম্পদ ২০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং বার্ষিক আয়ও তুলনামূলক কম। এতে দুই জোটের অর্থনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: দুই জোটেই উচ্চশিক্ষার ছাপ
প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত—যা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে ইতিবাচক ইঙ্গিত। বিএনপি জোটে ব্যারিস্টার, এমবিবিএস, এমফিলসহ উচ্চ ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বেশি। বিদেশে শিক্ষাপ্রাপ্ত প্রার্থীর উপস্থিতিও রয়েছে। জামায়াত জোটেও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীর আধিক্য রয়েছে। শিক্ষক, আইনজীবী ও চিকিৎসক পেশার প্রতিনিধিত্ব লক্ষণীয়। তবে উচ্চ আয়ের পেশাজীবীর সংখ্যা তুলনামূলক কম।
মামলার চিত্র: বিএনপিতে বেশি, জামায়াতে প্রায় নেই
দুই জোটের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈসাদৃশ্য দেখা গেছে মামলার ক্ষেত্রে। বিএনপি জোটের অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বা ছিল—যার বেশিরভাগই খালাস বা প্রত্যাহার হয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলার তথ্যও রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মামলা প্রায় নেই বললেই চলে। এতে তাদের প্রোফাইল তুলনামূলকভাবে ‘পরিচ্ছন্ন’ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
বয়স ও অভিজ্ঞতা: বিএনপিতে বৈচিত্র্য, জামায়াতে নবীনতা
বিএনপি জোটে বয়সের পরিসর ৩২ থেকে ৮৫ বছর পর্যন্ত। প্রবীণ রাজনীতিকের পাশাপাশি তরুণ পেশাজীবীর উপস্থিতি রয়েছে। অনেকেই অতীতে সংসদ সদস্য বা সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন।
জামায়াত জোটে বয়স ৩৭ থেকে ৬৮ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং প্রায় সবাই প্রথমবারের মতো সংসদে আসছেন। ফলে অভিজ্ঞতার তুলনায় নতুন মুখের আধিক্য বেশি।
পেশাগত বৈচিত্র্য
বিএনপি জোটে আইনজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, লেখকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। অনেকেই রাজনীতির পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা থেকে বড় অঙ্কের আয় করেন। জামায়াত জোটে শিক্ষকতা, আইন ও চিকিৎসা পেশার আধিক্য বেশি—যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও উচ্চ আয়ের দিক থেকে সীমিত।
সম্পদের ধরন: বৈচিত্র্যে এগিয়ে বিএনপি
বিএনপি প্রার্থীদের সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, শেয়ার, জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি ও স্বর্ণালঙ্কার। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পদের প্রভাবও দেখা যায়। জামায়াত প্রার্থীদের সম্পদ তুলনামূলকভাবে সীমিত—মূলত জমি, সঞ্চয় ও স্বল্প স্বর্ণালঙ্কার।
স্বতন্ত্র প্রার্থী: মাঝামাঝি অবস্থান
স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানা জেসমিনের আয় ও সম্পদ মাঝামাঝি পর্যায়ের। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহার হয়েছে, যা তাকে একটি মধ্যবর্তী অবস্থানে রেখেছে।
বিশ্লেষকের মত
নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলীর মতে, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাই নারী প্রার্থীদের মূল শক্তি হওয়া উচিত।’ তার ভাষায়, বিএনপি জোটে অভিজ্ঞ ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রার্থী বেশি, আর জামায়াত জোটে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও নবীন নেতৃত্বকে সামনে আনা হয়েছে। তিনি মনে করেন, সম্পদের প্রদর্শনের চেয়ে জনগণের সঙ্গে সংযোগ, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করাই নারী প্রার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও প্রার্থীদের হলফনামা দেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। দুই জোটের প্রার্থীদের মধ্যে যে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়— বরং রাজনৈতিক কৌশল ও দলীয় চরিত্রেরও প্রতিফলন।
বিষয়: ##সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন #৯০ শতাংশ প্রার্থী উচ্চশিক্ষিত





পাঠ্যপুস্তকে এনআইডির গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত করতে এনসিটিবিকে ইসির চিঠি
সংসদ নির্বাচনে গোপনে কিছু হয়নি: ইসি আনোয়ারুল
এনআইডি সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে টুঙ্গিপাড়ায় নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত
সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ
প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার শেষ দিন ১৫ মার্চ
পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ভোট
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা
সকালে না, দুপুরে হ্যাঁ: শপথ গ্রহণ নিয়ে জামায়াত-এনসিপির নাটকীয়তা 
