শিরোনাম:
ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২
Swadeshvumi
বৃহস্পতিবার ● ৮ জানুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি
প্রচ্ছদ » জাতীয় » মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি
২৩ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৮ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি

---

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গত বছরের ২১ জুলাইয়ের সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা পাইলটের ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের ভবন নির্মাণে অনিয়মকে এসব মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন।

১. তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি এবং স্কুলের বিল্ডিং কোড অমান্য করার দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করা। সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের (অব.) তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সেই টাকা উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

২. শহীদ পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশনে উল্লিখিত রুল অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান।

৩. নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ‘শহীদী মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান এবং তাদের স্মরণে মেমোরিয়াল নির্মাণ।

৪. প্রতি বছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা করা, উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং শিশুদের কবরের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ।

৫. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০২১-২০২৪ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর বাজেটে বিপুল অর্থ দুর্নীতি না হলে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। পরিবারগুলোর দাবি, দুর্নীতির কারণেই পাইলটসহ ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৭২ জন আহত হয়েছেন। তারা মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিল্ডিং কোড অমান্য করাকেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আশরাফুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও রফিক মোল্লারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, ওই দিন দুপুর ১টা ১২ মিনিটে দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে বিমানটি আছড়ে পড়লে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা জ্বলন্ত আগুনে পুড়ে ও দ্বিখণ্ডিত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্ব ইতিহাসে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এত বেশি প্রাণহানির নজির নেই। কোনো কোনো দম্পতি তাদের একমাত্র সন্তান বা একাধিক সন্তানকে হারিয়ে আজ নিঃসন্তান ও নির্বংশ।

পরিবারগুলো জানায়, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গত ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে নিহতদের ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা তারা ১৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি ২৯ ডিসেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাব্য প্রস্তাবটিও তারা প্রত্যাখ্যান করে আগে সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

তারা আরও জানান, ইতিপূর্বে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন (নম্বর ১১৮৪২/২০২৫) এবং উপদেষ্টাদের দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং বিদেহী আত্মার শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।






আর্কাইভ