শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
Swadeshvumi
রবিবার ● ১৯ মে ২০২৪
প্রচ্ছদ » জাতীয় » শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা
প্রচ্ছদ » জাতীয় » শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা
৪৬ বার পঠিত
রবিবার ● ১৯ মে ২০২৪
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা

২য় ধাপের উপজেলা নির্বাচন 

---

# আজ মধ্যরাতে শেষ হবে প্রার্থীদের প্রচার

# ভোটগ্রহণ হবে ১৫৭ উপজেলায় > ইভিএম ভোট ২৪টিতে

# ভোটের লড়াইয়ে মাঠে আছেন ১৮২৮ প্রার্থী

# ১৩ মে থেকে চলছে তৃতীয় ধাপের প্রচার 

# চতুর্থ ধাপের প্রচার শুরু আগামীকাল 

 

শাহনাজ পারভীন এলিস

 

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে ভোটের বাকি আর মাত্র একদিন। এ ধাপে ২১ মে দেশের ৬৩ জেলার ১৫৭ উপজেলায় ভোটের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে এ পর্যায়ে শেষ মূহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা। বৃষ্টি আর বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করেই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তারা ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন।

 

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হবে। সেই হিসাব অনুযায়ী আজ রোববার (২০ মে) মধ্যরাতে শেষ হবে প্রার্থীদের সবধরনের প্রচার-প্রচারণা। 

 

নির্বাচন উপলক্ষে ভোটের দিন (২১ মে) সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটের দিন কেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও এ পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘণসহ নানা ঘটনায় ইসিতে ২ শতাধিত অভিযোগ জমা পড়েছে। 

 

প্রার্থীদের অভিযোগ ও ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকবেই। আমাদের কাছে আসা সব অভিযোগের তদন্ত করা হয়েছে, হচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্যবস্থা নিচ্ছি। আচরণবিধি ভঙ্গ ও অভিযোগের ভিত্তিতে এরই মধ্যে অনেক প্রার্থী ও এমপিকে শোকজ করা হয়েছে, একজনের প্রার্থিতা বাতিলও করা হয়েছে। ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে’। 

 

এদিকে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে প্রথমে ১৬০ উপজেলায় ভোটের তফিসল ঘোষণা করা হয়। পরে চট্টগ্রামের রাউজান, বান্দরবানের রুমা ও কুমিল্লার আদর্শনগর উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। পরে ১৫৭ উপজেলায় প্রথমে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২ হাজার ৫৫ জন। তাদের মধ্য থেকে ১৭৭ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৮২৮ জন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬০৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯৪ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। 

 

বিনাভোটে জয়ী ২১ প্রার্থী 

একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এরই মধ্যে এ ধাপে নির্বাচিত হয়েছে ২১ জন। তাদের মধ্যে রয়েছে চেয়ারম্যান পদে- কুমিল্লা আদর্শ সদরে আমিনুল ইসলাম, জামালপুরের ইসলামপুরে মো. আ. ছালাম, ফরিদপুরের নাগরকান্দায় মো. ওয়াহিদুজ্জামান, চট্টগ্রামের রাউজানে এ কে এম এহছানুল হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আবুল কাশেম চিশতী, সাভারে মঞ্জুরুল আলম রাজীব ও মৌলভীবাজার সদরে উপজেলার কামাল হোসেন।

 

ভাইস চেয়ারম্যান পদে- রাজশাহীর বাগমারায় শহীদুল ইসলাম, রাঙামাটির রাজস্থালীতে হারাধন কর্মকার, কুমিল্লা আদর্শ সদরে আহাম্মেদ নিয়াজ, চট্টগ্রামের রাউজানে নুর মোহাম্মদ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে রফিকুল ইসলাম, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সুমন ও রূপগঞ্জে মিজানুর রহমান। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে- রাঙামাটির রাজস্থালীতে গৌতমী খিয়াং, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সাঈদা সুলতানা, কুমিল্লা আদর্শ সদরে হোসনে আরা বেগম, চট্টগ্রামের রাউজানে রুবিনা ইয়াছমিন রুজি, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হোসনে আরা বেগম, নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে শাহিদা মোশারফ ও রূপগঞ্জে ফেরদৌসী আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

 

আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি

দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬৩ জেলার ১৫৭ উপজেলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে যে কোন ধরনের অনিয়ম বন্ধে এসব ম্যাজিস্ট্রেট ভোটের আগে-পরে ৫ দিন মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট কেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তায় প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৭ জন ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় আদালত পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে ২ জন সশস্ত্র পুলিশও থাকছেন। 

 

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে উচ্চ পর্যায়ের একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির স্মার্টকার্ড (আইডিইএ) প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমের নেতৃত্বে এই সেলে দায়িত্ব পালন করছেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে তিন দিনের জন্য মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আগামী আজ মধ্যরাত থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।

 

প্রথম ধাপে ভোটের ফল

এর আগে প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ গয় গত ৮ মে। সেই ধাপে ১৩৯ উপজেলা ভোট পড়ে ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। তারমধ্যে ২২টি উপজেলায় ইভিএমে ভোট পড়ে ৩১ দশমিক ৩১ শতাংশ আর ব্যালটে ভোট পড়ে ৩৭ দশমিক ২২ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৬৩৫ জন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৭০, ভাইস চেয়ারম্যান ৬২৫ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে প্রায় ১২ হাজার কেন্দ্রে ভোটার ছিলো প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ । 

 

এদিকে তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় (২১টিতে ইভিএম) ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ মে। এসব উপজেলায় ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন  ১ হাজার ৪৫৮ জন। তার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪৯৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৭৫ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৮৬ জন। এসব উপজেলায় তিনপদে বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ৬ জন। তারমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১৩ মে থেকে প্রচার চালাচ্ছে এসব প্রার্থী। 

 

সবশেষ চতুর্থ ধাপের ৫৫ উপজেলায় (২টিতে ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে ৫ জুন। নির্বাচনে এসব উপজেলায় মনোনয়ন দাখিল করেন ৭৩৭ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২৭২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ২৬৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ১৯৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এসব উপজেলায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হয় ১২ মে, বাছাইয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থীরা আপিল করেন ১৩ থেকে ১৫ মে, আপিল নিষ্পত্তি হয় ১৬ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত। আজ ১৯ মে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষ সময়। আর ২০ মে চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। 

দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে এ পর্যায়ে ৪৭৬টি উপজেলায় চার ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি ১৯টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচনের সময় হলে এবং চার ধাপে যেসব যেসব উপজেলার ভোট স্থগিত হবে সেসব উপজেলায় একসঙ্গে নির্বাচনের আয়োজন করবে ইসি। সবশেষ ২০১৯ সালে পাঁচ ধাপে ভোট হয় পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

 

উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি/এলিস

 

 



বিষয়: #



আর্কাইভ