শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

Connecting...
Syncing...
Swadeshvumi
মঙ্গলবার ● ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » নির্বাসিত ছিলেন ১৭ বছর, ফিরে ৫৩ দিনেই প্রধানমন্ত্রী
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » নির্বাসিত ছিলেন ১৭ বছর, ফিরে ৫৩ দিনেই প্রধানমন্ত্রী
১২ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

নির্বাসিত ছিলেন ১৭ বছর, ফিরে ৫৩ দিনেই প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শায়লা শবনম

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন, কারাবাস, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে—এ যেন এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কাহিনি। তারেক রহমান দেশে ফেরার মাত্র ৫৩ দিনের মাথায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার মধ্য দিয়ে এই উত্থান পূর্ণতা পায়।

ফলাফলের রাত ও গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফল ঘোষণার রাত উত্তেজনায় ভরা ছিল। একের পর এক ফল ঘোষণায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটসহ ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও ভোটকে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। বহু বছর পর অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা পেয়ে ভোটারদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ।

নির্বাসন ও প্রবাসজীবন

২০০৭ সালের ৭ মার্চ বনানী থেকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের জীবনে এক কঠিন অধ্যায় শুরু হয়। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতনের পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। অনেকেই ভেবেছিলেন, এটাই তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি। কিন্তু লন্ডনে অবস্থান করেও তিনি দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকেন—ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত থেকে সাংগঠনিক কাঠামো অটুট রাখেন।

২০০৯ সালে বিএনপির কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে তার মা খালেদা জিয়া কারাবন্দী হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

অভ্যুত্থান, প্রত্যাবর্তন ও নেতৃত্ব

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। তিনি ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর সড়কজুড়ে ছিল বিশাল জনসমাগম। আবেগঘন ভাষণে তিনি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন। তবে দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই তার মা খালেদা জিয়ার মৃত্যু দল পরিবারকে শোকাহত করে। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নির্বাচননি প্রচারণা ও কৌশল

নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি দেশব্যাপী সফর শুরু করেন। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন, তরুণ ভোটারদের প্রতি বার্তা দেন এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, বেকারত্ব হ্রাস, কৃষক সহায়তা, প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসনের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, তরুণ ভোটারদের প্রতি বিশেষ বার্তা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বেকারত্ব হ্রাস, কৃষকদের সহায়তা, প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসনের অঙ্গীকার জনমনে সাড়া ফেলে।

নির্বাচনী যুদ্ধ ও ভূমিধস বিজয়

দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা এই বিজয় দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। তারেক রহমান নিজে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিজয়ী হন।

রাজনীতিতে সক্রিয়তা

আজকের রাষ্ট্রনায়ক তার শৈশব থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন; ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে সরাসরি তৃণমূল থেকে কাজ শুরু করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয়ের নেপথ্যেও তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ‘হাওয়া ভবন’কে আধুনিক থিঙ্ক ট্যাংক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, নির্বাচনি প্রচার, ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা এবং তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারের কোনো প্রশাসনিক পদে বসেননি, বরং দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে তৃণমূল প্রতিনিধি সভাআয়োজন করে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রেখেছেন।

শপথ ও নতুন অধ্যায়

সবশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথা ভেঙে উন্মুক্ত পরিসরে শপথ অনুষ্ঠান নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্যাতন ও নির্বাসনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে মাত্র ৫৩ দিনের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী— এই ঘটনাই তার রাজনৈতিক জীবনের নাটকীয়তা ও স্থিতিশীলতার প্রমাণ

 



বিষয়: #  #



আর্কাইভ