শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

Connecting...
Syncing...
Swadeshvumi
মঙ্গলবার ● ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ভোট
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ভোট
৬ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ভোট

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়াগতভাবে স্বচ্ছ ও মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু সহিংসতা, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্বেগের ছিলো। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে গতকাল রবিবার দেশীয় চার পর্যবেক্ষক সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (আনফ্রেল) আলাদা মূল্যায়নে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সকালে রাজধানীর গুলশানে আন্তর্জাতিক সংস্থা আনফ্রেল জানায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। এরপর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার, প্রতিবন্ধী অধিকারভিত্তিক সংগঠন বি-স্ক্যান, সংখ্যালঘু বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংগঠন রূপসা এবং নারী অধিকারভিত্তিক আরশি ট্রাস্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরবর্তী তাদের আলাদা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।

ভোট-পরবর্তী সহিংসতা বেড়েছে: অধিকার

সংবাদ সম্মেলনে অধিকারের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কোরবান আলী জানান, ১৮ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ জেলায় অন্তত ৬১টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নির্বাচনের দিন ২২টি আসনে ৪৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে তিনজন নিহত (একজন শিশু) ও শতাধিক আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ছিল, কিন্তু সহিংসতা উদ্বিগ্ন করেছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল বলেও দাবি করা হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’ বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

অবকাঠামোগত বাধা: প্রতিবন্ধীদের জন্য পোস্টাল ভোটের দাবি

বি-স্ক্যান জানায়, তারা ৮টি আসনের ১০০টি কেন্দ্রে ১০০ জন প্রতিবন্ধী পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব জানান, অধিকাংশ কেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা ও র‌্যাম্পের অভাব ছিল। কোথাও র‌্যাম্প থাকলেও তা মানসম্মত নয়। অনেক কেন্দ্রে ভোটকক্ষ তৃতীয় থেকে পঞ্চম তলায় থাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ ভোটাররা ভোগান্তিতে পড়েন। দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল ব্যালট বা সাইনেজের ব্যবস্থা ছিল না। গোপন কক্ষের পর্দা পাতলা হওয়া এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সহায়তার নামে সরাসরি ভোট দিয়ে দেওয়ার অভিযোগও এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালু, ভোটকক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে নিচতলায় স্থাপন এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে প্রতিবন্ধী বিষয় অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ ও চ্যালেঞ্জ: রূপসা

খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলাসহ ছয় বিভাগের ২৫টি আসনের ৫০৯টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে পর্যবেক্ষক সংগঠন রূপসা। তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা থাকলেও ভোটের দিন পরিস্থিতি তুলনামূলক ইতিবাচক ছিল। প্রায় ৯৮ শতাংশ কেন্দ্রে সময়মতো ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে ৪.২ শতাংশ কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের আচরণ বন্ধুসুলভ ছিল না। ৮.৩ শতাংশ কেন্দ্রে দলীয় এজেন্টদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং ১৫.৮ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৬.৫ শতাংশ কেন্দ্রে গণনার সময় পর্যবেক্ষকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি।

অনলাইনে নারী প্রার্থীদের ওপর ‘পরিকল্পিত’ আক্রমণ: আরশি ট্রাস্ট

আরশি ট্রাস্টের পর্যবেক্ষণ বলছে, নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচনকালীন সময়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ নারী প্রার্থী অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ৮৫ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন। সংগঠনের প্রতিনিধি নাফিসা রায়হানা বলেন, নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে কনটেন্ট রিপোর্ট, কুৎসা রটনা ও সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়েছে। বিদ্যমান সাইবার আইন থাকলেও কার্যকর প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে। অনলাইন জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

আনফ্রেলের মূল্যায়ন: শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য

অন্যদিকে আনফ্রেল তাদের মূল্যায়নে বলেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। সংস্থাটির চেয়ারপারসন রোহানা হেতিয়ারাসসি বলেন, দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতা, গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নির্বাচনি ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আর্থিক জবাবদিহি, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ নির্বাচন আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে।

নির্বাচন নিয়ে দেশীয় সংগঠনগুলোর মূল্যায়নে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি সহিংসতা, অন্তর্ভুক্তির ঘাটতি ও অনলাইন আক্রমণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আনফ্রেল নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য বললেও ভবিষ্যতের জন্য কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে।






আর্কাইভ