মঙ্গলবার ● ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » সকালে না, দুপুরে হ্যাঁ: শপথ গ্রহণ নিয়ে জামায়াত-এনসিপির নাটকীয়তা
সকালে না, দুপুরে হ্যাঁ: শপথ গ্রহণ নিয়ে জামায়াত-এনসিপির নাটকীয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর চলেছে নানা নাটকীয়তা। বিশেষ করে বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় সকালে বেঁকে বসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দল দুটির সদস্যরা শপথ না নেওয়ায় ঘোষণা দেন। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সিদ্ধান্ত বদলে শেষপর্যন্ত তারাও শপথ নিয়েছেন। ফলে সংসদ গঠনের শুরুতে দল দুটির একই দিনে ‘না’ থেকে ‘হ্যাঁ’— এই অবস্থান পরিবর্তন নতুন সংসদের শুরুতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়।
শপথ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, এটিএম আজহার, নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেখা যায়। স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত রুমিন ফারহানাও উপস্থিত ছিলেন, যদিও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পর্বে তিনি শপথকক্ষ ত্যাগ করেন। এর আগে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ নেওয়ার পর শপথপত্রের নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করেন নবনির্বাচিত সদস্যরা।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকালেই প্রথম ধাপে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা ছিল। তবে জামায়াত ও এনসিপির কয়েকজন নবনির্বাচিত সদস্য নির্বাচনি প্রক্রিয়া এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ ইস্যুতে আপত্তির কথা জানিয়ে সকাল সেশনে অংশ নেননি। বিশেষ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় তারা প্রথমে বেঁকে বসেন। এছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির এমপিদের শপথের সময় উপস্থিত হতে না পারা ইশরাক হোসেন দ্বিতীয় দফায় অন্যদের সঙ্গে শপথ নেন।
দুপুরে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও বদলাতে থাকে। দলীয় পর্যায়ে একাধিক বৈঠক, জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ এবং সংসদীয় কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত জামায়াত ও এনসিপি শপথে অংশ নেয়। দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও তারা শপথ পাঠ করেন। বিএনপির নবনির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর মত তাদের জোট শরিক এনসিপিও বেঁকে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত জামায়াতের পর তারাও শপথ নেয়।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘জনগণ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাই আমরা দুটি শপথই নিয়েছি।’ এবারের সংসদে বিরোধী দলে থাকা দুটির কৌশলগত অবস্থান— ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরুতেই শপথ ইস্যুতে এই নাটকীয়তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে।
দেশের আইনসভার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনের শপথ নেন আগের সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে। তবে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে নেই, ডেপুটি স্পিকার হত্যা মামলায় শামসুল হক টুকু কারাগারে। ফলে পরবর্তীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নেন এই সংসদের নতুন এমপিরা।





পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ভোট
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ মঙ্গলবার বিকেলে
২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ
বাংলাদেশ তার ক্যাপ্টেনকে বেছে নিয়েছে: ফাহাদ করিম
২৯৭ আসনে ভোটের হার ৫৯ শতাংশ: ইসি সচিব
দুই দশক রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি
নির্বাচনে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটারদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান 
