শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
Swadeshvumi
রবিবার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » অপরাধ » রাড্ডার স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ওসি জাহাঙ্গীরের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ
প্রচ্ছদ » অপরাধ » রাড্ডার স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ওসি জাহাঙ্গীরের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ
২ বার পঠিত
রবিবার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রাড্ডার স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ওসি জাহাঙ্গীরের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর, লুটপাট ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থলে শাহ আলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের উপস্থিতি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনাটিকে ছোট করে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় যুবদল নেতা ও পুলিশের বক্তব্যে এমন অভিযোগের তথ্য এসেছে। তবে ওসি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার পর রোববার তাকে শাহ আলী থানা থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির আদেশে অবশ্য প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশি গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি কাজ করছে।

মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালায় কয়েক শ ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশধারী লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

হামলাকারীরা যাওয়ার সময় জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে যায়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভাঙচুরের পাশাপাশি অফিসের মালামাল ও টিকাদানের সরঞ্জামও লুট করা হয়েছে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছিল বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার রাতে স্থানীয় শাহ আলী থানা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদুল মিরাজ পুলিশকে বিষয়টি জানানোর দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙার সময় সেখানে কয়েক শ মানুষ অবস্থান করছিলেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর ও মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

মিরাজের দাবি, তিনি প্রথমে শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদারকেও ফোন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিসি ওসিকে ঘটনাস্থলে যেতে বলার পরও ওসি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘটনাটিকে ১০-১৫ জনের একটি দোকানসংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে জানান।

মিরাজ বলেন, পরে তার কাছে থাকা লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ওসির গাড়ি ঘটনাস্থলের কাছে ছিল এবং তখন লুট করা মালামাল ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেছেন, তিনি মিরাজের কাছ থেকে ফোন পাওয়ার পর ওসিকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেছিলেন। এরপর কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

---

‘ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন ওসি’

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওসি জাহাঙ্গীরের অবস্থান ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পাওয়া গেছে। ওই কর্মকর্তার দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওসি ঘটনাটিকে তেমন গুরুতর নয় বলে উপস্থাপন করেছিলেন।

এমনকি স্থানীয় একজন বিএনপি নেতাকে ফোনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ওই নেতা ঘটনাটি সামান্য জমি নিয়ে বিরোধ বলে দাবি করেছিলেন বলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই হয়নি।

ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ি থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণেই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রমাণ মিলেছে

রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদও বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ যথাসময়ে সেখানে পৌঁছেছিল কি না এবং কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

---

রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিকভাবেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।

মিরপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্য ও তাদের অনুসারীদের এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ঘটনাটি নিয়ে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

১০ জন কারাগারে

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রোববার আরও ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় লুট হওয়া মালামালের দুই ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা পৃষ্ঠপোষকতা বা নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই নির্ধারিত হবে ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল এবং কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না।



বিষয়: #



আর্কাইভ